ইন্দোনেশিয়ার আচেহ উপকূলে ডুবে যাওয়া নৌযান থেকে ৭ শতাধিক অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, তাদের মধ্যে ৩৯৫ জন বাংলাদেশি এবং মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ২১০ জন। এদের মধ্যে ৮ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে বিবিসির খবরে বলা হয়। তাদেরকে বহনকারী নৌযানটি ডুবে গেলে সেখানকার মাছধরার নৌযানগুলি শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোরে এসব অভিবাসীকে উদ্ধার করে।
সেখানকার পুলিশ প্রধান সুনারিয়া জানান, প্রাথমিকভাবে তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, ইন্দোনেশিয়ার জলসীমার কাছে মালয়েশিয়ার নৌবাহিনী তাদের নৌযান ফিরিয়ে দেয়।
এদিকে, অভিবাসী বহনকারী আরো একটি নৌযানকে উপকূলে ভিড়তে না দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনী। ওই নৌযানটিতে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে মালয়েশিয়াও তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়।
এছাড়া, উপকূলে এক সপ্তাহ অবস্থানের পর প্রায় সাড়ে ৩০০ রোহিঙাবোঝাই নৌযানটিকে ফিরিয়ে দিয়েছে থাইল্যান্ড। বৃহস্পতিবার শেষ রাতে নৌযানটি থাইল্যান্ড উপকূল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাদেরকে পর্যাপ্ত খাবার, পানীয়, ওষুধ ও জ্বালানি দিয়ে সহায়তা করে মানবিক দায়িত্ব পালন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে থাই কর্তৃপক্ষ।
জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার অনুরোধ উপেক্ষা করে এসব অভিবাসীকে আশ্রয় দিতে অসম্মতি জানিয়েছে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়াও।
এর আগে গত বুধবার উপকূল থেকে ৮০০ অবৈধ অভিবাসী বোঝাই দুটি নৌযান ফিরিয়ে দেয় মালয়েশিয়া। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা রয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে আন্দামান সাগর ও মালাক্কা প্রণালীতে কয়েকটি নৌযানে প্রায় আট হাজার রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অভিবাসী আটকা পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা-আইওএম জানায়।
এদিকে, এ মানব পাচার প্রকট আকার ধারণ করায় এর সমাধান খুঁজতে আগামী ২৯মে ব্যাংকক সম্মেলন আহ্বান করেছে থাই সরকার। এই সম্মেলনে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন অস্ট্রেলিয়া, কম্বোডিয়া, লাওস, যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনামের প্রতিনিধিরা।