বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের জলসীমার উত্তর উপকূলের কাছে এক হাজারের মতো অভিবাসীবোঝাই পাচারকারীদের ৫টি নৌযান নোঙর করে আছে বলে বিবিসি খবর দিয়েছে। পাচারকারীরা মুক্তিপণের জন্য তাদের আটকে রেখেছে বলে জানা গেছে।
থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কাছাকাছি উপকূল ও সাগরে এখনো নৌকায় ভাসছে পাচার হওয়া বহু মানুষ। তারা মূলত বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা। শনিবারও মালয়েশিয়ার নৌবাহিনী তাদের জলসীমা থেকে অভিবাসীবাহী একটি নৌযানকে সাগরে ঠেলে দিয়েছে।
এরইমধ্যে শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের উপকূলে পাচার হওয়া বাংলাদেশিসহ আরো ২০০ অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির নৌবাহিনী। ইন্দোনেশিয়ার সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, শুক্রবার জেলেরা ওই অভিবাসীদের সাঁতরে তীরের দিকে আসতে দেখলে নৌবাহিনী তাদের উদ্ধার করে।
আচেহ প্রদেশে আশ্রয় পাওয়া বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা অভিবাসীরা সমুদ্রপথে যাত্রাকালে খাবার ও পানির জন্য মরিয়া হয়ে একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে কমপক্ষে ৭ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া সমুদ্রপথে যাত্রাকালে আরো ৭ শিশুর প্রাণহানি হয়েছে।
এরইমধ্যে শুক্রবার থাইল্যান্ডের দক্ষিনাঞ্চলীয় পাং না প্রদেশের একটি দ্বীপে শতাধিক অভিবাসীর সন্ধান পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের জলসীমার উত্তর উপকূলের কাছে ১ হাজারের মতো অভিবাসীবোঝাই ৫টি নৌযান নোঙর করে আছে বলে বিবিসি সূত্রে জানা গেছে।
এ পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব তুন রাজাককে শনিবার টেলিফোন করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন করে, আন্দামান সাগরে ভাসতে থাকা অভিবাসীদের সাময়িক আশ্রয় দেওয়ার বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার আহ্বান জানান।
এদিকে, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় সাগরে ভাসমান নৌযানে ঝুঁকিতে থাকে অভিবাসীদের দায় নিতে নারাজ মিয়ানমার সরকার।
দেশটির প্রেসিডেন্টের দপ্তর হুমকি দিয়েছে, সমুদ্রপথে মানবপাচার ঠেকাতে আগামী ২৯ মে ব্যাংককে থাই সরকারের ডাকা বৈঠকের আমন্ত্রণপত্রে 'রোহিঙ্গা' শব্দের উল্লেখ থাকলে তারা তাতে অংশ নেবে না।