ভারতের মুম্বাইয়ে নির্মম নির্যাতন এবং ধর্ষণের শিকার এক নারী ৪২ বছর কোমায় থাকার পর সোমবার অরুণা শানবাগ -৬৮ বছর নামের এক নারী মারা গিয়েছেন। ওই নারী পেশায় একজন নার্স ছিলেন।
১৯৭৩ সালে ২৬ বছর বয়সে কর্মরত অবস্থায় হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় দ্বারা নির্মম নির্যাতন এবং ধর্ষণের শিকার হন। এরপর থেকেই মুম্বাইয়ের সরকারি কিং এডওয়ার্ড মোমোরিয়াল হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, মৃত্যুর আগে অরুণা শ্বাসকষ্ট এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন।
হাসপাতালে নাকে নল দিয়ে তরল খাবার খাইয়ে অরুণাকে এতোদিন বাঁচিয়ে রাখা গেলেও দিন ছয়েক আগে তার নিউমোনিয়া হয়। এরপর কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে তাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চলে।
সোমবার হাসপাতালের চিকিৎসকরা ৬৮ বছর বয়সী অরুণাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অরুণা যখন নির্যাতনের শিকার হন, সে সময় তার বয়স ছিল ২৬ বছর। তিনি ছিলেন কিং এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হাসপাতালের জুনিয়র নার্স।
ভরত বাল্মিকী নামের এক ওয়ার্ড বয় কুকুর বাঁধার শেকলে আটকে অরুণার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। অক্সিজেন চলাচলে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অরুণার মস্তিষ্ক। ১১ ঘণ্টা পর হাসপাতালের বেইজমেন্টে গলায় শেকল বাধা অরুণাকে পাওয়া যায় অচেতন অবস্থায়।
এনডিটিভি জানিয়েছে, হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে থাকা পশুপাখির জন্য রাখা খাবার চুরি করায় বাল্মিকীকে বকেছিলেন অরুণা। সে কারণে তাকে ধর্ষণের শিকার হতে হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাল্মিকীর বিচার হয় চুরির জন্য, ধর্ষণের জন্য নয়।
ভারতের সাবেক সাংবাদিক ও লেখিকা পিংকি ভিরানী চলতি শতকের শুরুতে কোমায় আচ্ছন্ন অরুণার নিষ্কৃতি-মৃত্যুর আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গেলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নার্সরা পিংকির ওই আবেদনের বিরোধিতা করেন। ২০১১ সালের মার্চে ভারতের আদালত ওই আবেদন খারিজ করে দেয়।
কোমায় বন্দি এই নার্সের জীবন নিয়ে ১৯৯৮ প্রকাশিত হয় পিংকি ভিরানীর ‘অরুণাস স্টোরি’। অরুণাকে নিয়ে মরাঠি ভাষায় একটি নাটকও মঞ্চস্থ হয়েছে।