দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমুদ্রপথে ভাসমান বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অভিবাসীদের সাহায্যের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ফিলিপাইন।
মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র চার্লস জোস বলেন, জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী অভিবাসীদের সাহায্য করতে আইনত বাধ্য এর অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি দেশই।
এদিকে, সমুদ্রপথে অভিবাসীদের উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি তাদের উপকূলে ভিড়তে দেয়ার জন্য ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ড সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা।
এরইমধ্যে, মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেয়া অভিবাসীদের চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে সহযোগিতা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইউএনএইচসিআর।
গত এক সপ্তাহ ধরে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের সমুদ্র উপকূল থেকে এ পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অভিবাসী। তবে সাগরে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে এখনো ভাসছে হাজারো অভিবাসী। ঠাঁই মিলছে না কোনো দেশে। যে দেশের তীরেই যাক না কেন তাদের ঠেলে দেয়া হচ্ছে সমুদ্রে দিকে।
শুধু তাই নয়, কোনো অভিবাসীকে সাগরে ডুবতে দেখলে তাকে তীরে না তুলতে সোমবার জেলেদের নির্দেশ দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া কর্তৃপক্ষ। এমনকি কোনো আশ্রয়প্রার্থীর নৌযান যেন তাদের সমুদ্রসীমায় ঢুকতে না পারে সেজন্য ইন্দোনেশিয়া নৌবাহিনীর চারটি নৌযান টহল দিচ্ছে। ইন্দোনেশিয় কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ।
মঙ্গলবার এ বিষয়ে এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা-আইওএম, ইউএনএইচসিআর ও মানবাধিকার সংস্থা। এতে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, তারা যেন সমুদ্রে ভাসমান অভিবাসী উদ্ধারে উদ্যোগ নেন এবং পাশাপাশি তাদের নিরাপদে তীরে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়।
উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমুদ্রপথে ভাসমান বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অভিবাসীদের সাহায্যের জন্য ফিলিপাইন প্রস্তুত বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র চার্লস জোস।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি দেশই এর সনদ অনুযায়ী অভিবাসীদের মানবিক সহায়তা দিতে আইনগতভাবে বাধ্য। তবে ঠিক কি ধরণের সাহায্য তাদের দেয়া হবে সে বিষয়ে কোন বিস্তারিত কিছুই বলেন নি তিনি।
এদিকে, অভিবাসী বিষয়ে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বুধবার কুয়ালালামপুরে বৈঠকে বসছেন মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
এরইমধ্যে, মালয়েশিয়ার অবস্থানরত অভিবাসীদের চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে সহযোগিতা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইউএনএইচসিআর।