দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাগরে অসহায়ভাবে নৌকায় ভাসতে থাকা হাজারো অভিবাসন-প্রত্যাশীদের সাময়িক আশ্রয় দিতে সম্মত হয়েছে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া।
অবশেষে আন্তর্জাতিক মহলের চাপের মুখে সাগরে নৌযানে ভাসমান, পাচারের শিকার প্রায় ৭ হাজার বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গাকে সাময়িক আশ্রয় দেবে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া।
কুয়ালালামপুরে এ দুই দেশ ও থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক শেষে এ ঘোষণা আসে।
এর আগে, বুধবার স্থানীয় সময় ভোরে ইন্দোনেশিয়ার উপকূল থেকে আরো ৪৩৩ জনকে উদ্ধার করেছে দেশটির জেলেরা। তারা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা বলে ধারনা জানা গেছে।
এদিকে, সাগরে ভাসমান অভিবাসন প্রত্যাশীদের মানবিক সহায়তা দিতে মিয়ানমার প্রস্তুত বলে প্রথমবারের মতো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামী ২৯ মে'র ব্যাংকক বৈঠকে মিয়ানমার যোগ দিচ্ছে বলেও জানিয়েছে থাইল্যান্ড।
গত ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের উপকূল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সমুদ্রপথে পাচারের শিকার প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গাকে। কিন্তু সাগরে নৌযানে এখনো ভাসমান আরো কয়েক হাজার অভিবাসনপ্রতাশীকে দ্ধারে কিংবা আশ্রয় দিতে রাজি হচ্ছিল না এই তিন দেশের সরকার। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহলের চাপ সত্বেও নিজেদের অনড় অবস্থান থেকে সরে আসছিলেন না তারা।
অবশেষে সাগরে নৌযানে ভাসমান প্রায় ৭ হাজার অভিবাসন-প্রত্যাশীকে সাময়িক আশ্রয় দিতে রাজি হলো মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। বুধবার কুয়ালালামপুরে অভিবাসী সংকট নিরসনে এক জরুরি বৈঠক শেষে এ ঘোষণা আসে। বৈঠকে অংশ নেন মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। সেইসঙ্গে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া পাচারের শিকার এসব মানুষকে আশ্রয় দিতে এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে।
পরে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিফা আমান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় আগামী এক বছরের মধ্যে পাচারের শিকার এসব অভিবাসন প্রত্যাশীর পুনর্বাসন ও প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
তিনি আরো বলেন, বৈঠকে থাইল্যান্ড সাময়িক আশ্রয়ের কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তবে থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী থানাসাক প্রতিমাপ্রগর জানিয়েছেন এই পরিস্থিতিতে তার দেশের প্রচলিত আইন খতিয়ে দেখতে হবে।
এর আগে, একই দিন ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্র উপকূল থেকে ৪৩৩ অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির জেলেরা। তারা বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়াদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, চালক ছাড়াই চার মাস ধরে তাদের নৌযানটি সমুদ্রে ভাসছিল। জাহাজটির ইঞ্জিন ঠিকমতো কাজ করছিল না। এই নৌযানটিকে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া উপকূল থেকে তিনবার সাগরে ঠেলে দিয়েছিল দেশ দুটির নৌবাহিনী।
এদিকে, নৌযানে অবস্থানরত অভিবাসীদের মানবিক সহায়তা দিতে মিয়ানমার প্রস্তুত বলে প্রথমবারের মতো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এছাড়া সমুদ্রপথে মানবপাচার ঠেকাতে আগামী ২৯ মে ব্যাংককে থাইল্যান্ডের ডাকা বৈঠকে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ মিয়ানমান গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন থাই উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী।