সৌদি আরবের মক্কায় মসজিদ আল-হারামে ক্রেইন উল্টে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
পাশাপাশি আহতের সংখ্যাও বেড়ে ২৩০ ছাড়িয়েছে। আহতদের মধ্যে ৪০ জন বাংলাদেশি বলে দেশটিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি নেই।
মক্কার আমির খালেদ আল-ফয়সাল মসজিদ আল হারামের সংস্কার কাজ চলার মধ্যে হজে সংঘটিত এ দুর্ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে।
ধূলি ঝড়ের মধ্যে শুক্রবার জুমার দিনে সন্ধ্যায় মুসলমানদের পবিত্রতম স্থান কাবা শরিফ ঘিরে থাকা মসজিদ আল-হারামে বিরাট একটি ক্রেইন উল্টে পড়ে।
দুর্ঘটনার পরপর নিহতের সংখ্যা ৮৭ জন জানিয়েছিলের মক্কার কর্মকর্তারা। পরে সৌদি সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে রয়টার্স নিহতের সংখ্যা ১০৭ এবং আহতের সংখ্যা ২৩৮ জন বলে জানিয়েছে।
সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্সের প্রধান জেনারেল সুলাইমান আল-আমর আল- ইখবারিয়া টেলিভিশনকে বলেন, দুর্ঘটনাস্থল পরিষ্কার করে ফেলা হয়েছে।
আহতদের সুচিকিৎসার সর্বোচ্চ বন্দোবস্ত করতে মক্কার আমির নির্দেশ দিয়েছেন বলে তার মুখপাত্র সুলতান আল- দোসারি জানিয়েছেন।
সৌদি রেড ক্রিসেন্টের হজ ও উমরাহ বিষয় বিভাগের প্রধান খালেদ আল-হাবশি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহতদের হাসপাতালে নিতে ৬৮টি উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। যারা অল্প আহত হয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থলেই তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
সন্ধ্যা ৫টা ১৯ মিনিটে দুর্ঘটনার পাঁচ মিনিটের মধ্যে আমাদের উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছে যায়। প্রথমেই ৪৯ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাংলাদেশি নাগরিক শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, মাগরিবের আগে প্রচণ্ড বালু ঝড় হয় ওই সময় ক্রেইনটি ভেঙে পড়ে। আমাদের চোখের সামনে বহু মানুষকে আহত নিহত হতে দেখেছি।
গতকাল রাত সাড়ে ১২টায় সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ্ বলেন, দুর্ঘটনায় ৪০ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে পাঠানোর পর প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কেউ গুরুতর আহত হননি।
এ ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব ও ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক তথ্য এখন পর্যন্ত জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হারাম শরিফের চতুর্থ তলায় আছড়ে পড়ে ক্রেনটি।বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, দুর্ঘটনার পর অনেকের রক্তাক্ত দেহ হারাম শরিফের মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। কারও কারও দেহ চাপা পড়ে আছে ধ্বংসস্তূপের নিচে।
দুর্ঘটনার পর আতঙ্কিত মুসল্লিদের কাউকে কাউকে কান্না ও ইতস্তত ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়।
গতকাল জুমার দিন হওয়ায় হারাম শরিফে মুসল্লিদের ভিড় স্বাভাবিকভাবেই অন্য দিনের তুলনায় বেশি ছিল। হজের উদ্দেশে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লাখো হাজিও এরই মধ্যে উপস্থিত হয়েছেন সেখানে।