বাধ্যতামূলক কোটায় শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মন্ত্রীরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন। সোমবার রাতভর ব্রাসেলসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইইউ দেশগুলোর মধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজার শরণার্থী ভাগাভাগির প্রস্তাবে একমত হতে পারেননি তারা।
এরইমধ্যে শরণার্থীদের ঢল ঠেকাতে কঠোর অভিবাসন আইন করেছে হাঙ্গেরি। একইসঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলীয় দুটি প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটি। এদিকে, তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে গ্রিসগামী অভিবাসীবাহী নৌযান ডুবে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শরণার্থী ও অভিবাসন প্রত্যাশীদের আশ্রয় প্রসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। সোমবার বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে বৈঠক করেন তারা। এতে বাধ্যতামূলক কোটায় ইইউ দেশগুলোর মধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজার শরণার্থী ভাগাভাগি করে নেয়ার প্রস্তাবে একমত হতে পারেননি ইইউ নেতারা।
লুক্সেমবার্গ ও জার্মানি বলছে, শরণার্থী ভাগাভাগির পক্ষে নীতিগতভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ ইইউ রাষ্ট্র একমত হলেও এ বিষয়ে সমঝোতার জন্য আগামী মাসে আরেকটি বৈঠক পর্যন্ত সময় প্রয়োজন।
শরণার্থীদের ঢল ঠেকাতে অভিবাসন আইন আরো কঠোর করেছে হাঙ্গেরি। অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মঙ্গলবার দক্ষিণাঞ্চলীয় দুটি প্রদেশে জরুরি অবস্থাও জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এর ফলে কেউ অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করলে তাকে গ্রেপ্তার করতে পারবে হাঙ্গেরি পুলিশ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার ৯ হাজারের বেশি শরণার্থী সীমান্ত পার হয়েছে।
এদিকে, অস্ট্রিয়ার সঙ্গে জার্মানি তার সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপের পর প্রতিবেশী অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোও একই পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।
এছাড়াও মঙ্গলবার তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌযান ডুবে ১১ নারী ও ৪ শিশুসহ কমপক্ষে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ডুবে যাওয়া নৌযানটি থেকে ২১১ জনকে উদ্ধার করেছে দেশটির কোস্টগার্ড। এসব অভিবাসন প্রত্যাশীরা গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল।