হাঙ্গেরি পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর রোববার খুলে দিয়েছে সার্বিয়ার সঙ্গে তাদের প্রধান সীমান্ত পথ। হাঙ্গেরি ও সার্বিয়ার স্বরাস্ট্রমন্ত্রী যৌথভাবে হরগোস-রোজকে ক্রসিংটি খুলে দেন। এতে আবারো হাজার হাজার শরনার্থী সার্বিয়া থেকে হাঙ্গেরি হয়ে অস্ট্রিয়া পাড়ি দিবে।
দেশছাড়া এসব মানুষকে আশ্রয় দেয়ার বিষয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো। উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে আগামীকাল ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা আলোচনায় বসবেন।
নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে সিরিয়াসহ বিশ্বের যুদ্ধ-বিধ্বস্ত, সংঘাতপূর্ণ দেশগুলো থেকে প্রতিদিনই শত শত মানুষ ইউরোপের দেশগুলোতে ঢুকছে। কেবল রোববারই অস্ট্রিয়ায় ঢুকেছে ১০ হাজারের বেশি মানুষ। সোমবার এ সংখ্যা আরো বেশি বলে ধারণা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
এ পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে সার্বিয়ার সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দেয় হাঙ্গেরি। এতে শরণার্থীদের বিশাল স্রোত এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছুটে বেড়িয়েছে। শেষ পর্যন্ত পাঁচদিন বন্ধ থাকার পর রোববার হাঙ্গেরি ও সার্বিয়ার সবরাষ্ট্রমন্ত্রী যৌথভাবে হরগোস-রোজকে ক্রসিং খুলে দেয়। ওই সীমান্ত খুলে দেয়ায় শরণার্থীরা হাঙ্গেরি থেকে অস্ট্রিয়ায় ঢুকবে।
এদিকে, গত বুধবার পর্যন্ত ক্রোয়েশিয়া সার্বিয়া থেকে আসা ২০ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিল। তবে, শরণার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ক্রোয়েশিয়া এখন তাদের হাঙ্গেরি সীমান্তে এনে রাখছে। এরপর হাঙ্গেরি তাদের বাসে করে অস্ট্রিয়ার পূর্ব সীমান্তের অভ্যর্থনা কেন্দ্রের কাছে পাঠাচ্ছে।
দেশছাড়া এসব মানুষকে আশ্রয় দেয়ার বিষয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর নেতারা। উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা মঙ্গলবার আলোচনায় বসবেন।
জাতিসংঘ বলছে, শরণার্থীদের প্রতি ইইউভুক্ত কিছু দেশের আচরণ এ জোটের ঐক্যকে সংকটের মুখে ফেলেছে।
এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৭০ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ৮৫ হাজারকে দিবে ২০১৬ সালে এবং এক লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিবে ২০১৭ সালে।