আজ পবিত্র হজ—‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি মাতা লাকা ওয়ালমুল্ক্, লা শারিকা লাকা।‘ অর্থাৎ— ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।’ এ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাতের ময়দান।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থেকে আগদ ২০ লক্ষাধিক মানুষের চোখের পানিতে আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে সব গুনাহ মাফ চাওয়ার প্রার্থনার মাধ্যমে শেষ হলো হজের খুতবা।
স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার কিছু পরে শুরু হয়ে খুতবা শেষ হয় ১২টা ৪৪মিনিটে।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বলে খুতবা প্রদান শুরু করেন গ্র্যান্ড মুফতি শেখ আব্দুল আজিজ আল শেখ।
খুতবায় তিনি যা বললেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহতায়ালার জন্য তাই আমি তারই প্রশংসা করছি। সেই আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হজরত মোহাম্মদ (সা.) তার বান্দা ও তার পক্ষ থেকে প্রেরিত পুরুষ (রাসূল)। কামনা করছি, তার প্রতি, তার পরিবার-পরিজন ও তার সাহাবিদের প্রতি কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবারিত রহমত বর্ষিত হোক।
এরপর তিনি বলেন, হে মানবমণ্ডলী! ইসলাম শান্তির ধর্ম। এখানে সন্ত্রাসের কোনো স্থান নেই। ইসলামে শুধু মানবাধিকার নয়, পশুর অধিকার সম্পর্কেও বলা হয়েছে। ইসলাম সাদা-কালো, ধনী-গরিবের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেনি। ঐতিহ্যগতভাবে ধর্মীয় সভ্যতাই উৎকৃষ্ট। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করার কথাও বলা হয়েছে ইসলামে।
সম্প্রতি মক্কায় ক্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন তিনি। হজের ব্যবস্থাপনায় জড়িতদের দোয়া করেন।
খুতবার শেষ দিকে গ্র্যান্ড মুফতি বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশে বলেন, আসুন, সবাই মিলে পাঁচটি মৌলিক অধিকার রক্ষা করি। সেগুলো হলো- ধর্ম, সম্পদ, ইজ্জত, জীবন ও বিবেক-বুদ্ধি রক্ষার অধিকার।
তিনি বলেন, গণবিধ্বংসী অস্ত্র দিয়ে নিরাপত্তা টিকিয়ে রাখা যায় না। দেশ দখল ও পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত দিয়ে নিরাপত্তা অটুট রাখা সম্ভব নয়। অবরোধ, অনাহার, অধিকার হরণের ফলাফল কখনোই কল্যাণকর নয়। এগুলোর ফলে শত্রুতা আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হয়।
সোমবার রাতেই মসজিদুল হারাম থেকে মিনা অভিমুখে যাত্রা করেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুসল্লিরা। হজের নিয়তে ইহরাম পরিধান করে মিনায় অবস্থান করছেন। এবারের হজে অংশ নিয়েছেন কমপক্ষে ২০ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান।
নিয়ম অনুযায়ী, ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও রাত্রিযাপনের পরদিন ৯ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায় পর্যন্ত মিনায় অবস্থান করা। ভোরে লাখো মুসল্লির সমবেত কণ্ঠে ‘লাব্বায়েক, আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক’—ধ্বনি দিতে দিতে আরাফাতের উদ্দেশে রওয়ানা হন মুসল্লিররা।
সেখানে মুসল্লিদের উদ্দেশে খুতবা ও বয়ান পাঠ করেন কাবার গ্র্যান্ড মুফতি শেখ আব্দুল আজিজ আল শেখ। আসরের নামাজ আদায় করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানেই থাকবেন মুসল্লিরা।
সূর্যাস্তের পর ৫ কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় গিয়ে একসঙ্গে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায়ের পর খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন। সেখানেই শয়তানকে মারার জন্য পাথর সংগ্রহ করে ভোরে ফজর নামাজ পড়ে আবার মিনায় ফেরার পালা। সেখানে শয়তানকে ৭টি পাথর মেরে কোরবানি দিয়ে মাথার চুল ছেটে গোসল করবেন তারা।
এরপর ইহরাম শেষ করে স্বাভাবিক পোশাক পরে মক্কায় ফিরে কাবা শরিফ তাওয়াফ। এ সময় কাবার সামনে সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে সাতবার সায়ি অর্থাৎ দ্রুত গতিতে হাঁটবেন মুসল্লিরা।
সেখান থেকে আবারো মিনায় যাত্রা। সেখানে দুই দিন অবস্থান করে শয়তানকে পাথর মেরে হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পালা। পরে মক্কায় বিদায়ী তাওয়াফ শেষ করে নিজ নিজ দেশের উদ্দেশে যাত্রা করবেন হাজিরা।