সৌদি আরবের মিনায় পবিত্র হজ পালনকালে পদদলিত হয়ে ৭৬৯ হাজির মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত দাবি করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে এ দাবি জানান তিনি। রোববার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মিনায় পদদলিত হয়ে এত হাজির হতাহত হওয়ার ঘটনাকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে বর্ণনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
এ সময় নিহত হাজিদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট—একই সঙ্গে তিনি তার ভাষণে ওই ঘটনা তদন্তের আহ্বান জানান।
এদিকে, মিনার ট্র্যাজেডি নিয়ে ইরান রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেল আল-জুবেরি।
মিনার ঘটনা প্রসঙ্গে এর আগে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আল শেখ বলেন, মৃত্যুতে মানুষের হাত নেই। মৃত্যু মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এ কারণে মিনা ট্র্যাজেডির জন্য হজ কমিটির প্রধানকে দোষারোপ করা যাবে না।
মিনায় গত ২৪ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনায় মৃত হাজির সংখ্যা বেড়ে ৭৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। হজ পালনকালে গত ২৫ বছরের মধ্যে ভয়াবহতম ওই দুর্ঘটনায় ৯৩৪ জন হাজি আহত হয়েছেন।
এত হতাহতের পরও ওই ঘটনায় কোন দেশের কতজন হাজি নিহত বা আহত হয়েছেন তা সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। এখন পর্যন্ত যে হিসাব পাওয়া গেছে তার পুরোটাই এসেছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে।
ইরানের দাবি ওই ঘটনায় তাদের দেশের কমপক্ষে ১৩৬ জন হাজির মৃত্যু হয়েছেন। এ ছাড়া মরক্কো, ক্যামেরুন, নাইজার, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিসর, চাদ, সোমালিয়া, সেনেগাল, আলজেরিয়া, তানজানিয়া, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশের হাজিদের হতাহত হওয়ার তথ্য রয়েছে।
মিনায় হাজিদের মৃত্যুর ঘটনায় চাপে পড়েছে সৌদি আরব। এ বিষয়ে ইরানের পাশাপাশি সরব হয়েছে ইন্দোনেশিয়া ও নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন মুসলিম অধ্যুষিত দেশ।