মিয়ানমারে আগামী নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের সচেতনভাবেই এড়িয়ে চলেছেন দেশটির বিরোধী নেত্রী অং সান সু চি। দলের তদন্ত ইউনিটের একজন শীর্ষ নেতা আল জাজিরাকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়া, দলের আরেক নেতা বলেছেন, সুচির দল এনএলডির জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সবচেয়ে বড় সুযোগ মুসলিমদের দল থেকে দূরে রাখা।
নাম প্রকাশ না করার স্বর্থে ওই কর্মকর্তা বলেন, বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে ক্রমাগত বেড়ে চলা মুসলিম বিরোধী সেন্টিমেন্ট কমিয়ে আনতে তার দল 'ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি'তে 'মুসলিম শুদ্ধিকরণ' বা মুসলমানদের অবাঞ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এনএলডি থেকে এক হাজার ১৫১ জন মুসলিম প্রার্থীর কেউই আঞ্চলিক কিংবা জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
এছাড়া, দেশটির ক্ষমতাসীন সেনা সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি থেকেও কোন মুসলিম প্রার্থী নেই।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন থেকে মুসলিমদের বিরত রাখা, নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার সবচেয়ে ভালো কৌশল বলে উল্লেখ করেছেন দলটির আরেক শীর্ষ নেতা উইন হেটেইন।
অথচ মিয়ানমারে বর্তমানে ৫০ লাখ মানুষ অর্থাৎ দেশটির অন্তত চার থেকে ১০ ভাগ মানুষ মুসলিম।
এদিকে, ৭০ বছর বয়সী সু চি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অহিংস আন্দোলনের স্বিকৃতি হিসেবে ১৯৯১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। কিন্তু দেশটির প্রান্তিক গোষ্ঠি রোহিঙ্গা ও মুসলিমদের ওপর দমন পীড়নের ব্যাপারে তার নিরবতা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে দেশটির সরকার ৭ লাখ লোকের ভোটাধিকার হরণ করে। এদের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা।
মিয়ানমার সংখ্যালঘু ১৩৫টি নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠিকে নিজ দেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে রোহিঙ্গাসহ দেশটির বাকী সংখ্যালঘু গোষ্ঠিকে স্বীকৃতি দেয়নি।