মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনে অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি- এনএলডির কাছে আগাম পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে সেনা সমর্থিত ক্ষমতাসীন দল।
নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক পুরো ফলাফল এখনো আসেনি— এ পর্যন্ত ১২টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে তাতে সবকটিতেই জয় পেয়েছে এনএলডি।
পার্লামেন্টে কমপক্ষে ৭০% আসন পাওয়ার আশা করছে দলটি।
এদিকে, নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। তারা ফলাফল প্রত্যাখ্যান করবে না বলে নিশ্চিত করেছেন সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ সিনিয়র জেনারেল মিন অং হলাইং।
মিয়ানমারে গত ২৫ বছরের মধ্যে প্রথম অবাধ, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয় রোববার। তিন কোটি ভোটারের প্রায় ৮০ শতাংশই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। জান্তা সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন ধরে গৃহবন্দি হয়ে কাটানো দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির দল এনএলডি যে এতে ভালো ফলাফল করবে এ নিয়ে সংশয় ছিল না।
সোমবার সকালেই বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্ষমতাসীন ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি- ইউএসডিপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হ্যাতে ও নিজেদের পরাজয়ের কথা স্বীকার করে নিয়ে বলেন, এই হারের কারণ কী তা খতিয়ে দেখা হবে।
অন্যদিকে, এই ফলাফল সেনাবাহিনী প্রত্যাখ্যান করবে না বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির কমান্ডার ইন চিফ সিনিয়র জেনারেল মিন অং হলাইং।
তবে মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্টের এক চতুর্থাংশ আসন এখনো সামরিক বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত। এরপরও এককভাবে এনএলডি যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চায় সেক্ষেত্রে বাকি আসনের দুই তৃতীয়াংশে জয় নিশ্চিত করতে হবে দলটিকে। আবার জয় পেলেও সহজেই সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবেন না তারা। কারণ সংবিধানে সেনাবাহিনীকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
এদিকে, নির্বাচনে জয় পেলেও স্বামী ও দুই সন্তান বিদেশি নাগরিক হওয়ায় দেশটির সংবিধার অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই সু চির। তবে জয়ী হলে সবার উপরেই তার ক্ষমতা থাকবে বলে জানিয়েছেন সু চি।
মিয়ানমারে প্রায় ৫০ বছরের সামরিক শাসনের অবসানের পর ২০১১ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে সেনা সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি- ইউএসডিপি। এরপরই দেশটিতে রাজনৈতিক সংস্কার শুরু হয়।
এদিকে, মিয়ানমারের মোট জনসংখ্যার ৪ থেকে ১০ শতাংশ মুসলিম হলেও এ নির্বাচনে প্রধান দুই দল-এনএলডি এবং ইউএসডিপি কেউই তাদের প্রার্থীতার সুযোগ দেয়নি। এছাড়া ২০১১ সালে ভোট দেয়ার সুযোগ পেলেও এবার কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে ভোট দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি।