গত শুক্রবার রাতে সন্ত্রাসী হামলার পর এখনো স্বাভাবিক হতে পারেনি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস। নিহতদের স্মরণে পালিত হচ্ছে ৩ দিনের শোক। এ পর্যন্ত হামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সন্দেহভাজন ১০ জনকে বেলজিয়াম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, প্যারিসের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যতো মানুষ সম্ভব ততোজনকে হত্যা করাই জঙ্গিদের উদ্দেশ্য ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া নিহত হামলাকারীদের মধ্যে একজন শরনার্থী হিসেবে ইউরোপে প্রবেশ করেছিল বলেও জানিয়েছে তারা।
স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে প্যারিসের প্রায় ছয়টি স্থানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। আহত সাড়ে তিনশো মানুষের মধ্যে প্রায় একশো জনের অবস্থা গুরুতর। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে হামলা চালিয়ে যত মানুষ সম্ভব ততজনকে হত্যাই ছিল জঙ্গিদের উদ্দেশ্য। আইএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এসব জঙ্গিরা তিনটি দলে ভাগ হয়ে হামলাগুলো চালায়। নিহত সাত হামলাকারীর মধ্যে একজন ফ্রান্সের নাগরিক, অপর দুই জন বেলজিয়ামের নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, ২৯ বছর বয়সী ফ্রান্সের ওই নাগরিকের নাম ওমর ইসমাইল মোস্তেফাই। তার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে ছোটখাট মামলা থাকলেও, কখোনো জেল খাটতে হয়নি তাকে।
এছাড়া, ১৮ বছর বয়সী নিহত আরেক হামলাকারীর মরদেহের সঙ্গে সিরিয়ার পাসপোর্ট পাওয়া গেছে। গ্রিসের এক কর্মকর্তা জানান, এ তরুন গত অক্টোবরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা শরণার্থীদের সঙ্গে ইউরোপে ঢোকে।
শুক্রবারের হামলায় ছয় আত্মঘাতি হামলাকারী নিহত হয়েছে। অপর একজন পুলিশের গুলিতে প্রান হারায়। আইএস এ হামলার দায় স্বীকার করে জানায় এ হামলার সঙ্গে ৮ জন সরাসরি যুক্ত ছিল।
হামলার পরপরই প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোয়া ওঁলাদ তার ভাষণে এ হামলাকে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে আইএসের যুদ্ধ বলে অভিহিত করেছেন। এ হামলার ফলাফল হিসেবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটিতে আবারো আইফেল টাওয়ার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বন্ধ করা হয়েছে লুভর মিউজিয়ামও।
এছাড়াও আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গণজমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্যারিস জুড়ে জরুরি অবস্থা চলছে। শহরের নিরাপত্তায় প্রায় ১৫০০ নিরাপত্তাকর্মী বহাল রয়েছে। স্কুল, লাইব্রেরি, খাবার দোকানসব কিছু বন্ধ। নিহতদের স্মরণে শনিবার হামলাস্থলগুলোতে মোমবাতি জ্বালায় ও ফুল দেয় স্বজনরা।
এদিকে, এ হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ছাপিয়ে আইএস জঙ্গিদের কার্যক্রম বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সম্প্রসারিত হওয়ার আশঙ্কা করছে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।