মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে দুই যুদ্ধপরাধী বদর নেতা আলী আহসান মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান জামাতে ইসলামী।
দলের প্রধান সিরাজুল ইসলাম বলেন, পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্যের কারণেই জনগণকে দণ্ড দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।
ঢাকায় পাকিস্তানের একজন সত্যিকারের বন্ধুকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানোর হয়েছে— এ কথা উল্লেখ করে তিনি দিনটিকে কালো দিন হিসেবেও অভিহিত করেন।
পাকিস্তানের আদর্শে বিশ্বাসী এবং পূর্ব পাকিস্তানকে আলাদা করার বিপক্ষে থাকা মানুষদেরকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ হত্যা করছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
পাকিস্তানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিষোদগার ও একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ বিচার নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য নিয়ে প্রকাশ্যে সমাবেশ করেছে পাকিস্তান জামাতে ইসলামীও।
দুই যুদ্ধাপরাধী একাত্তরের আলবদর কমান্ডার আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং হানাদর পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকরের প্রতিবাদ জানাতে রোববার দেশটির খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু শহরে জনসমক্ষে বক্তৃতা করেন তাদের জামাত-প্রধান সিরাজুল ইসলাম।
দুজনের ফাঁসির দিনটি কালো দিন— আর পূর্ব পাকিস্তানকে আলাদা করার বিপক্ষে থাকা বন্ধুদের একের পর এক ফাঁসির পরও প্রধানমন্ত্রী নেওয়াজ শরীফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল রাহেল শরিফের নিশ্চুপ থাকার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের সময় যে অপরাধে মুজাহিদ-সাকার ফাঁসি হয় তারও সমর্থন মেলে।
তিনি বলেন, ঢাকায় পাকিস্তানের দুই সত্যিকারের বন্ধুকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে—এদেশটির প্রতি অনুগত হয়েই তারা একাত্তরে সেনাবাহিনীকে সহায়তা করেছিল।
তিনি বাংলাদেশ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে ক্রমাগত বিষোদগার করে নানা দম্ভোক্তি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানপন্থীদের ফাঁসি দিয়ে বাংলাদেশ সরকার চুক্তি ভঙ্গ করছে অথচ ইসলামাবাদ নীরব।
পাকিস্তান জামাত-প্রধান এসময় "জনগণ উদার পাকিস্তান চায়" বলে প্রধানমন্ত্রী নেওয়াজ শরীফের সাম্প্রতিক বিবৃতি প্রসঙ্গে তাকেও সাবধান করেন।
তিনি আরো বলেন, উদার অথবা ধর্মনিরপেক্ষ কোনো দেশ চাইলে নেওয়াজ শরীফ ভারত অথবা বাংলাদেশে চলে যেতে পারেন।