একটি সর্বজনীন ও আইনি বাধ্যবাধকতা সংবলিত চুক্তিতে উপনীত হওয়ার জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় একটি নতুন বৈশ্বিক চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে শুরু হওয়া জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে দেয়া ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, জলবায়ূ পরিবর্তন রোধের লড়াই ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই একসূত্রে গাঁথা।
বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে যে বৈশ্বিক উদ্যোগ তাতে এবারের প্যারিস সম্মেলন হতে পারে একটি টার্নিং পয়েন্ট বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় তার দেশের অঙ্গীকার পূরণের ব্যাপারে বিশ্ব নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন।
তিনি এক্ষেত্রে অর্থায়ন ও প্রযুক্তি স্থানান্তরে উন্নত বিশ্বকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
এর আগে, ২০০৯ সালে কোপেনহেগেন সম্মেলন ব্যর্থ হওয়ায় এবারের সম্মেলনের দিকে তাকিয়ে আছে বিশ্ববাসী।
এতে অংশ নিচ্ছে বিশ্বের ১৯৫টি দেশ।
ফ্রান্সের সময় সোমবার সকাল ১০টার দিকে প্যারিসের লো বোরগে কনফারেন্স সেন্টারে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে শুরু হয়েছে জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ-টুয়েন্টিওয়ান।
সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণকারী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং, জার্মান চ্যাঞ্চেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলসহ বিশ্বের ১৯৫টি দেশের সরকার প্রধান এবং প্রতিনিধিরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবর্তে সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।
এরইমধ্যে বৈশ্বিক কার্বন নির্গমণ কমাতে একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করেছেন বিশ্ব নেতারা।
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির রাশ টেনে ধরতে বিশ্ব নেতাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে তাগিদ দিয়েছে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন।
তিনি বলেন, তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখতে আরো বহুদূর যাওয়া প্রয়োজন।
সম্মেলনে দেয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে যে বৈশ্বিক উদ্যোগ তাতে এবারের প্যারিস সম্মেলন হতে পারে একটি টার্নিং পয়েন্ট।
তিনি উষ্ণতা বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্রের দায় স্বীকার করে সমস্যা সমাধানে দায়িত্ব নেয়ার কথাও বলেন।
তার সঙ্গে সুর মিলয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিতের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের দিকেও সমান মনোযোগ দিতে হবে।
ধারণা করা হচ্ছে এবারের জলবায়ু সম্মেলন কপ-টুয়েন্টি ওয়ানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বৈশ্বিক তাপামাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখতে একটি দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছানো। এছাড়া, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে গবেষণার জন্য তহবিল গঠন ও ক্ষতিপূরণের বিষয়েও ঘোষণ আসতে পারে এবারের সম্মেলন থেকে।
বিশ্বের প্রতিটি দেশ কার্বন নিঃসরণ কমানোর নিজস্ব কৌশল ও পরিকল্পনা পেশ করবে এবারের সম্মেলনে। তবে চুক্তি অথবা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দরিদ্র দেশগুলো অংশগ্রহণ থাকবে কি থাকবে না তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।