পাকিস্তানের পেশোয়ারে সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে তেহরিক-ই তালেবান জঙ্গিদের হামলায় শিশুসহ ১৫০ জন নিহতের ঘটনায় চার জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। বুধবার সকালে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
তারা হলেন: আব্দুস সালাম, হজরত আলী, সাবিল ওরফে ইয়াহিয়া ও মুজিবুর রেহমান।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের সামরিক আদালতে ওই চার জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড হয়।
বার্তা সংস্থা এএফপি পেশোয়ারের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, স্কুলে হামলার ঘটনায় দণ্ডিত ওই চার জনের মৃত্যুদণ্ড খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের একটি কারাগারে কার্যকর করা হয়েছে।
উল্লেখ, গতবছর ১৬ ডিসেম্বরে তেহরিক-ই-তালেবান জঙ্গিদের হামলায় ওই সময় ১৩২ শিশুসহ ১৫০ জন নিহত হয়। গুরুতর আহত হন কমপক্ষে ১২২ জন। ৮ ঘণ্টা সেনা অভিযানের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।
পাকিস্তানের পেশোয়ারে ওয়ারসাক রোডে সেনাবাহিনী পরিচালিত এ স্কুলে সেনাসদস্য ও বেসামরিক নাগরিকদের ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সী ৬শরও বেশি শিশু সকালেই অন্যান্য দিনের মতো স্বাভাবিকভাবেই শুরু করে কার্যক্রম। ক্লাশে ক্লাশে শুরু হয়েছিল পাঠাদান।
ওই সময় নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করে, স্কুলটির বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। তালেবান জঙ্গিদের হটিয়ে তাদের কবল থেকে স্কুলটিকে মুক্ত করতে অভিযান চলে। সেখানে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ৫ জন জঙ্গি নিহত হয় বলে জানায় সেনাবাহিনী।
জানা গেছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে পেশওয়ারের প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত আর্মি পাবলিক স্কুলে প্রবেশ করে কয়েকজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। তাদের মধ্যে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীও ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্কুলে ঢুকেই এলোপাতাড়ি গুলি করতে শুরু করে জঙ্গিরা এতে ঘটনাস্থলেই হতাহত হয় শিক্ষার্থীসহ অনেকেই।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় সকালে সামরিক পোশাক পরা ৫/৬ জন জঙ্গি স্কুলে ঢুকে পড়ে। তারা স্কুলের ভেতরে ৫ শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে।
এ হামলার কিছুক্ষণ পরই ঘটনার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানের তেহরিক-ই-তালেবান। জঙ্গি সংগঠনটির এক মুখপাত্র জানায়, তালেবানদের পরিবার লক্ষ্য করে সেনাবাহিনীর হামলার জবাব এটি। তিনি বলেন, ৬ জন হামলাকারীকে স্কুলের শুধুমাত্র বড় শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।