ইতিহাসের পাতায় ঢুকে গেলেন সৌদি নারী সালমা বিনতে হিজাব আল ওতেইবি। শনিবার অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর একটি এলাকা থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সূত্র: বিবিসি ও এএফপি
রোববার সৌদি আরবের নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান ওসামা আল বার- এর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্তা এএফপি ও বিবিসি এ তথ্য জানায়।
মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশটিতে ২০০৫ সালে পৌরসভা নির্বাচন শুরুর পর এবারই প্রথম ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছেন সৌদি নারীরা। একইসঙ্গে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতারও সুযোগ পান তারা। একচ্ছত্র রাজতন্ত্রের দেশটিতে পৌরসভার কাউন্সিলরগণই শুধু নির্বাচিত হন।
শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সৌদি আরবের ২৮৪ পৌরসভার ২১০০ আসনে এবার সরাসরি ভোট হয়। ১০৫০টি আসনে কাউন্সিলর নিয়োগ দিবে ২৮৪টি দেশটির 'মিউনিসিপাল অ্যাফেয়ার্স' বিষয়ক মন্ত্রণালয়; মোট আসন সংখ্যার দিক দিয়ে যা এক তৃতীয়াংশ। ৫ হাজারের ৯৩৮ পুরুষ প্রার্থীর বিপরীতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৯৭৮ জন নারী।
রোববারই নির্বাচনের ফল প্রকাশের কথা; রোববার দুপুর পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুসারে ভোটগণনা চলছিল।
মুসলিম ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ সৌদি আরবে নারীরা ভোটাধিকার পেলেও কঠোর অনুশাসন এবং নির্বাচনী আইনের কারণে নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে নারী প্রার্থীদের। আইন অনুসারে, প্রচারণার সময় নারী প্রার্থীরা সরাসরি কোনো পুরুষ ভোটারের কাছে গিয়ে ভোট চাইতে পারেননি। পর্দার অপর পার্শ্বে থেকে বা অন্য কোনো পুরুষের মাধ্যমে নারী প্রার্থীদের পুরুষ ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে হয়েছে।
তাছাড়া জনসমক্ষে কঠোর পর্দাপ্রথাসহ চলাফেরায় বিধিনিষেধ এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সমস্যায় পড়েছেন নারী প্রার্থীরা। নারীদের ভোটার নিবন্ধনেও বেগ পেতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সৌদি আরবে এক লাখ ৩০ হাজার নারীসহ ১৫ লাখের বেশি নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন। শনিবারের এ নির্বাচনে নিবন্ধিত নারী ভোটারের ১০ শতাংশেরেও কম ভোট দিতে গেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আবার প্রচারণার অভাবে নারী প্রার্থীদের সম্পর্কে না জানায় অনেক ভোটারই কোনো প্রার্থীকে ভোট দেননি বলে জানিয়েছেন।
সৌদি আরবে নির্বাচন খুবই বিরল ঘটনা। ১৯৬৫ সাল থেকে ২০০৫ পর্যন্ত দীর্ঘ ৪০ বছরে দেশটিতে কোনো নির্বাচন হয়নি। শনিবারের নির্বাচনটি মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশটির ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় ঘটনা।
সৌদি নারীদের ভোটাধিকার দিয়ে গিয়েছিলেন দেশটির প্রয়াত বাদশাহ আবদুল্লাহ। শুধু ভোটাধিকার নয়, রাজতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবেও মেয়েদের গুরুত্ব বেড়েছিল আবদুল্লাহর সময়। গত জানুয়ারিতে মারা যাওয়ার আগে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদ শুরা কাউন্সিলে ৩০ জন নারীকে নিয়োগ করেছিলেন।