সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মঙ্গলবার ৩৪ দেশের সমন্বয়ে সামরিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। বিসিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এ ধরনের কোনো সামরিক জোটে প্রথমবারের মতো যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ— রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সিতে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে জোট গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়।
এদিকে, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরবের নেতৃত্বে ৩৪টি মুসলিম দেশের নতুন এক সামরিক জোটে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজ এ জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে তাতে যোগ দেয়ার জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেল বিন আহমেদ আল- জুবাইর।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে অন্যান্য মুসলিম দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশ এই জোটে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, মিসর ও আফগানিস্তানে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে নতুন করে সমন্বয় ঘটাবে এ জোট।
প্রিন্স মোহাম্মদ আরো বলেন, ইসলামিক উগ্রপন্থা নামক রোগের সঙ্গে লড়াই করার বিষয়ে ইসলামি বিশ্বের নজরদারি থেকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ইসলামিক উগ্রপন্থা নামক রোগ ইসলামি বিশ্বকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বর্তমানে প্রতিটি মুসলিম দেশ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ...তাই এসব লড়াই অভিযানে সমন্বয় ঘটানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানায়, ইন্দোনেশিয়াসহ আরও ১০টি ইসলামিক দেশ এই জোটের প্রতি সমর্থন দিয়েছে।
প্রিন্স মোহাম্মদ বলেন, ‘এই জোটে যোগ দেয়ার আগে এই দেশগুলোকে কিছু পদ্ধতির মধ্য দিয়ে আসতে হবে।’
এ জোটের তালিকায় বাংলাদেশ, এশিয়া, আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের কয়েকটি দেশ রয়েছে—তবে আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়াকে এ জোটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
জোটের ৩৪টি দেশের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, বাহরাইন, বাংলাদেশ, বেনিন, চাদ, কোমোরোস, কোট দ্য আইভরি, জিবুতি, মিসর, গাবন, গিনি, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মালি, মরক্কো, মৌরিতানিয়া, নাইজার, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, কাতার, সেনেগাল, সিয়েরালিওন, সোমালিয়া, সুদান, টোগো, তিউনেসিয়া, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানায়, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যৌথ অভিযান কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে এ জোটের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই জোট গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়। এতে বলা হয়, সব ধরনের সন্ত্রাসী গ্রুপ ও সংগঠনের হাত থেকে মুসলিম জাতিকে রক্ষা করতেই সৌদি আরবের নেতৃত্বে এ জোট গঠন করা হয়েছে। এই জোটের যৌথ অপরেশন সেন্টার হবে রিয়াদে।
জোটের মধ্যে বাংলাদেশসহ মিসর, জর্ডান ,কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, লেবানন, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও আফ্রিকার মুসলিম দেশগুলো রয়েছে।
এরইমধ্যে সৌদিআরবের নেতৃত্বে একটি জোট ইয়েমেনে ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।
অন্যদিকে ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠি আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে এ জোটের ঘোষণা দেয়া হলো।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান জানিয়েছেন ইসলামি উগ্রপন্থা ইসলামি বিশ্বকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বর্তমানে প্রতিটি মুসলিম দেশ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তাই এসব লড়াই অভিযানে সম্বন্বয় সাধণের জন্যই এই জোট গুরুত্বপূর্ণ।