মুসলিম দেশগুলো নিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী সামরিক জোট গঠনকে সৌদি আরবের রাজনৈতিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তারা বলেন, এ জোটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অস্পষ্ট, সেখানে বাংলাদেশের ভূমিকা কী হবে, সেব্যাপারে কোনো আলোচনা ছাড়াই এ ধরনের জোটে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত বোকামির সামিল।
এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশ শিয়া-সুন্নী দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়তে পারে বলেও আশংকা তাদের। সৌদি সরকার বাংলাদেশকে কী প্রস্তাব দিয়েছে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহবান জানান তারা।
মুসলিম বিশ্বে নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবে সৌদি আরবকেই মনে করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির নেতৃত্বের যোগ্যতা নিয়ে নানা সমালোচনার সৃষ্টি হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, সৌদি আরব সুন্নীপন্থী আইএস জঙ্গিকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। চলতি বছরে শিয়া মসজিদে হামলাসহ বেশ কয়েকটি ঘটনায় দেশটির আইনশৃঙ্খলা নিয়েও নতুন সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ অবস্থায় সন্ত্রাসবাদ দমনে সুন্নী মুসলিম দেশগুলোকে নিয়ে সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত সামরিক জোটে যোগ দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সম্মতির সমালোচনা করেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তাদের মতে, এ জোটের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এখন পর্যন্ত অস্পষ্ট। বাংলাদেশ কী ধরনের সামরিক সহায়তা দেবে তা অস্পষ্ট। এ জোটে যোগ দেয়ার আগে জাতীয় স্বার্থ এবং লাভ-ক্ষতির বিষয় খতিয়ে দেখা উচিৎ।
সাবেক রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক আশফাকুর রহমান বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের বাইরে অন্য কোনো জোটে সৈন্য পাঠানোর প্রশ্ন থাকলে তাতে বাংলাদেশের নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে।
তবে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যে ৩৪টি দেশ নিয়ে সৌদি আরব এ জোট গঠন করেছে, তাদের মধ্যে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ কোনো দেশ নেই।
ইরানকে বড় শক্তি উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, দেশটির সঙ্গে সৌদি আরবের দ্বন্দ্ব রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশ শিয়া-সুন্নীর দ্বন্দ্বে জড়িয়ে না যায়, সে আশঙ্কা আছে।
গত ১৫ ডিসেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে, সৌদি আরবের নেতৃত্বে এ সামরিক জোটে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।