আন্তর্জাতিক

জার্মানির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অভিবাসীদের আশ্রয়

জার্মানির চ্যালেঞ্জ অভিবাসীদের আশ্রয়
জার্মানির চ্যালেঞ্জ অভিবাসীদের আশ্রয়

নতুন বছরে অতিরিক্ত ৪ বিলিয়ন ইউরো লাগবে, আরো ৪ হাজার লোক নিয়োগ দিতে হবে –একে চ্যালেঞ্জই মনে করেন জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিবাসন বিভাগের প্রধান নরবার্ট সেইৎস।

সপ্তাহ দুই আগে বার্লিনে জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এশিয়ার কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে মতবিনিময়ে এ কথা বলেন তিনি।

সেইৎসের কথায় স্পষ্ট হয়ে উঠে, ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশটিকেও এক বছরে আট লাখ অভিবাসী যোগ হওয়ার পর বেশ খানিকটা চাপ নিতে হচ্ছে।

অ্যাসোসিয়েশন অফ জার্মান সিটিজের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলমুট ডেডি বলেন, আগামী অর্থ বছরে শরণার্থীদের জন্য ৭ থেকে ১৬ বিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ রাখতে হবে। এর একটি অংশ ফেডারেল সরকার ইতোমধ্যে বরাদ্দ দিয়েছে। তারপরও নগর কর্তৃপক্ষগুলোর ঘাটতি থাকছে।

জার্মানিতে বর্তমানে বেকারত্বের হার ৭ %। শরণার্থীর চাপ এতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য মেকলেনবার্গ-ভোরপোমের্ন রাজ্যের রাজধানী শেরিনের ডেপুটি মেয়র অ্যান্ড্রেয়াস রুহলের।

নিবন্ধনের পর শরণার্থীদের ১৬টি রাজ্যের বিভিন্নটিতে ভাগ করে দেয় জার্মানির ফেডারেল সরকার। এরমধ্যে ৩ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে শেরিন। এর ৯০ শতাংশই সিরীয়, এর মধ্যে রয়েছে ১৫০টি শিশু।

শরণার্থীদের স্বাগত জানালেও রুহল বলেন, জার্মানির অনেকে মনে করছে যে শরণার্থীর এ সংখ্যা তাদের চাকরির বাজার নষ্ট করবে।

১০ লাখ শরণার্থী সামাল দেয়া যাবে, চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেল বললেও তার রক্ষণশীল দলের নেতাদের মনে যে ভয় কাটেনি, তা স্পষ্ট।

আর সেই কারণেই মের্কেলকে দলীয় নেতাদের সামনে ক’দিন আগেই বলতে হয়েছে, ‘সবার স্বার্থে’ শরণার্থীর সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে।

রাজনীতিকরা একথা বললেও ব্যবসায়ীদের মুখ থেকে শোনা গেছে ভিন্ন কথা।

শেরিন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের আঞ্চলিক ও বৈদেশিক নীতি বিভাগের প্রধান স্টেফানি শ্যারেনবাখ বলছেন, বেকারত্বের হার বাড়ার কোনো শঙ্কাই নেই।

তার যুক্তি, জার্মানদের গড় আয়ু ৮০ বছরের মতো হওয়ায় তাদের এখন কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ফলে এই অভিবাসীদের যদি শ্রমকাজারে যুক্ত করা যায়, তা দেশের জন্যই সুফল বয়ে আনবে।

জার্মানিতে অভিবাসীদের ক্ষেত্রে ভাষা যে একটি বড় সমস্যা, তা সবাই স্বীকার করছেন। কারণ যে দেশগুলো থেকে এখন শরণার্থী আসছে, তাদের কেউই জার্মানভাষী নয়।

ফ্রান্সে অভিবাসীদের বড় একটি অংশ আসে দেশটির সাবেক উপনিবেশ থেকে, যারা ফরাসি ভাষায়ই কথা বলে। কিন্তু জার্মানির ক্ষেত্রে তা হয় না।

ফলে এখন এই অভিবাসীদের জার্মান শিক্ষার প্রয়োজন পড়ে, তাদের কারিগরি বিভিন্ন শিক্ষায়ও শিক্ষিত হতে হবে। সেই ধরনের নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছে শেরিন চেম্বার অফ কমার্স।

কিন্তু এই শরণার্থীর একটি বড় অংশ নারী ও শিশু, যাদের শ্রমবাজারে পাওয়া দুস্কর। ইনস্টিটিউট ফর দি ওয়ার্ল্ড ইকোনমির গবেষণা বলছে, ২০ শতাংশ শরণার্থীর কর্মসংস্থান না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাদের মতে, শরণার্থী বা এই অভিবাসীরা চাকরির বাজারে কত দ্রুত স্থান করে নিতে পারে, সেটাই হবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইকোনকিম রিসার্চ বলছে, অদক্ষ, জার্মান না জানা এই শরণার্থীদের দক্ষ করে তুলতে যে কয়েক বছর লাগবে, সেই সময়টাতে অর্থ ব্যয় করে যেতে হবে তাদের পেছনে; তবে এই ব্যয়ের সামর্থ্য জার্মানির রয়েছে।

এ তো গেল কর্মসংস্থানের সমস্যা; তার সঙ্গে রয়েছে সমাজের একটি অংশের শরণার্থীবিরোধী মনোভাব। তা এখন ক্ষুদ্র হলেও কর্মসংস্থানের সঙ্কট সৃষ্টি হলে তা বড় হয়ে উঠতে পারে বলে অনেকের ধারণা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিবাসন বিভাগের প্রধান সেইৎস এই শঙ্কার বিষয়টি মাথায় রাখছেন। সেজন্য শরণার্থীদের প্রতি মানুষের মনোভাব যেন বিরূপ না হয়ে উঠে, সেজন্য প্রচারণা চালানোর কথা বলেন তিনি।

শরণার্থী সমস্যা মোকাবেলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব দেশের অংশীদারিত্ব প্রত্যাশা করেছিল জার্মানি। কিন্তু সব দেশ সাড়া দেয়নি। জার্মানি বার বার বলেও শরণার্থী নেওয়ার প্রতিশ্রুতি আদায় করতে পারেনি তাদের কাছ থেকে।

এশিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনার জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পদস্থ একজন কর্মকর্তা এনিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। ইউরোপের বড় দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্যও যথেষ্ট দায়িত্ব নিচ্ছে না বলেও অনুযোগ জানান তিনি।

শরণার্থীদের আরেকটি বড় সমস্যা যুদ্ধস্মৃতি, অনেকে বিশেষ করে শিশুরা মানসিক সমস্যা নিয়ে এসেছে জার্মানিতে।

বার্লিন সেন্টার ফর টর্চার ভিকটিম-এর মনোচিকিৎসক গারলিন্ডে অমান বলেন, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বেঁচে এলেও দুঃসহ সেই স্মৃতি ফেলে আসেনি তারা। ওই স্মৃতি তাদের মানসিক পীড়া দেয়।

শরণার্থী শিবিরে কাজ করে আসা এই নারী মনোচিকিৎসক বলেন, শরণার্থীদের ৪০ শতাংশই ট্রমাটাইজড, এর মধ্যে শিশুদের অবস্থা খুব খারাপ।

শরণার্থীদের এই মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে কাটিয়ে তুলতেও কাজ করতে হচ্ছে জার্মান সরকারকে।

তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে শরণার্থীদের আকাশচুম্বি প্রত্যাশা। বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে তারা জার্মানি পৌঁছেই মনে করছে, তাদের সব মুশকিল আসান।

কিন্তু এটা যে তাদের আরেক সংগ্রামের শুরু, তার জন্য তাদের প্রস্তুত করে নেয়ার দায়িত্বটিও জার্মান সরকারের উপরই বর্তাচ্ছে। আর তাতে সফল না হলে ‘গুড’ জার্মান আর ‘গুড’ থাকবে না এই ভিনদেশিদের কাছে।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

ইমরান খানকে সংসদ সদস্য পদের অযোগ্য ঘোষণা

কংগ্রেসের নতুন সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন নিহত

ঘুষ নেওয়ার দায়ে সু চির আরও ৩ বছরের কারাদণ্ড

আয়ারল্যান্ডের পেট্রোল স্টেশনে বিস্ফোরণ, নিহত ১০

থাইল্যান্ডে শিশু দিবাযত্নকেন্দ্রে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮

নজিরবিহীন ধাক্কার কবলে পড়ছে দক্ষিণ এশিয়া : বিশ্বব্যাংক

থাইল্যান্ডে দিবাযন্ত্র কেন্দ্রে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৩৪

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ