ভারতের পাঞ্জাবে বিমানবাহিনীর পাঠানকোট ঘাঁটিতে শনিবার ভোরে সন্ত্রাসী হামলায় চার হামলাকারী ও দুজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন।
ভারতীয় গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত সেখানে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি চলছিল।
এ পর্যন্ত এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের খবরে জানানো হয়, ভোর ৪টার দিকে সেনাবাহিনীর পোশাকে সন্ত্রাসীরা বিমানঘাঁটির কাছে একটি ভবন থেকে এ হামলা চালায়।
সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) কানওয়ার বিজয় প্রতাপ সিং বলেন, পুলিশের গুলিতে চার জন হামলাকারী নিহত হয়েছে। অভিযান এখনো চলছে। বিমানঘাঁটি থেকে কিছুটা দূরে নিরাপত্তা বাহিনী ও হামলাকারী সন্ত্রাসীদের মধ্যে গুলিবিনিময় চলছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে— সেনাবাহিনীকে খবর দেয়া হয়েছে। অভিযানে সহায়তার জন্য ওই এলাকায় হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লাহোরে ‘সারপ্রাইজ’ সফরের কয়েকদিনের মাথায় এ সন্ত্রাসী হামলা ঘটল।
হামলাকারীরা জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই মোহাম্মদের সদস্য এবং তারা পাকিস্তানের ভাওয়ালপুর থেকে এসেছে বলে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পাঠানকোটের এ বিমান ঘাঁটিতে হামলার বিষয়ে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল।
এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতেই দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, বিমান বাহিনীর প্রধানসহ সংশ্লিষ্টরা এক জরুরি বৈঠক করে।
গোয়েন্দা সতর্কতার পরপরই পাঠানকোট বিমানবন্দরে ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড মোতায়েন করা হয়; অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে জম্মু ও কাশ্মিরের পুলিশকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়।
এনডিটিভি জানিয়েছে , ভোর ৪টার দিকে বিমান ঘাঁটির নিকটবর্তী একটি গ্রাম থেকে বন্দুকধারীরা প্রথম গুলি চালায় বলে। এ সময় সন্ত্রাসীরা গুরুদাসপুরের সাবেক পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট সালভিন্দর সিং এর একটি গাড়ি ব্যবহার করে।
শুক্রবার রাতে পাঠানকোট-জম্মু সড়ক থেকে সেনাবাহিনীর পোশাক পরা জঙ্গিরা সালভিন্দর ও তার দুই সহযোগীসহ গাড়িটি অপহরণ করে। পরে তিন জনকে ছেড়ে দেয়া হলেও সালভিন্দরের মোবাইল ফোন ও গাড়িটি জঙ্গিরা রেখে দেয়।
সালভিন্দরের ফোন দিয়েই হামলাকারীরা পাকিস্তানে তাদের নিয়ন্ত্রণকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বলে গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে টাইমস অফ ইন্ডিয়া।
ওই ফোনে পাঠানকোট বিমানবন্দরের যতটা সম্ভব ক্ষতি করার নির্দেশ দেয়া হয়।
ছয় মাস আগে গুরুদাসপুরে এক সন্ত্রাসী হামলায় চার পুলিশ ও তিন জন সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার পর এটাই সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা।
ওই হামলায় তিন জঙ্গি অংশ নিয়েছিল এবং পরে পুলিশের সঙ্গে ১২ ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলিতে তাদের প্রত্যেকেই নিহত হয়েছিল।