ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে— এরপরও বিশ্বের ৪০০ কোটি লোক এখনও ইন্টারনেট সংযোগের বাইরে।
মোট ৩২০ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছেন। মাত্র ১১০ কোটি মানুষ ব্যবহার করেন উচ্চগতির ইন্টারনেট।
আর ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের কারণে যেভাবে উচ্চ প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান কিংবা সরকারি সেবা বৃদ্ধির কথা, বাস্তবে সেভাবে বাড়েনি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ালে সমন্বিতভাবে সারাবিশ্বকে বিবেচনায় নিলে 'ডিজিটাল লভ্যাংশ' প্রত্যাশার তুলনায় কম।
ওপরের এসব তথ্য ও মতামত এসেছে বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক প্রকাশনা বিশ্ব উন্নয়ন রিপোর্টে।
ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট-২০১৬ নামে এ প্রকাশনা প্রতি বছর জানুয়ারিতে বের করে বিশ্বব্যাংক। ওয়াশিংটন সময় বুধবার রিপোর্টটি প্রকাশ হয়েছে। বিশ্ব উন্নয়ন রিপোর্টের এবারের বিষয় ডিজিটাল ডিভিডেন্ড বা ডিজিটাল প্রযুক্তি থেকে লভ্যাংশ। গতবারের বিষয় ছিল 'কর্মসংস্থান'।
রিপোর্টে দেশভিত্তিক মোবাইল ফোন কিংবা ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। তবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করে। এর মধ্যে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ৪ কোটির বেশি মানুষ।
বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে বলা হয়, ডিজিটাল প্রযুক্তির সম্প্রসারণ সম্পদশালী, দক্ষ এবং প্রভাবশালীদের ঘিরেই হয়েছে, নতুন প্রযুক্তির সুযোগ নেয়ার ক্ষেত্রে যারা অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থানে।
অবশ্য গত এক দশকে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা বেড়ে তিনগুণ হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেন, আমাদের অবশ্যই প্রত্যেক মানুষকে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সংযুক্ত করতে হবে। ডিজিটাল লভ্যাংশ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দিতে ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নতি করতে হবে।
রিপোর্টে বিভিন্ন বিশ্লেষণে বাংলাদেশের নাম এসেছে। অনলাইন আউটসোর্সিং নিয়ে একটি মূল্যায়নে 'ও ডেস্ক' নামের আউটসোর্সিং প্ল্যাটফর্মে বেশি যোগাযোগ আছে এমন ৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে। অন্য দেশগুলো হচ্ছে_ যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, পাকিস্তান ও ফিলিপাইন।
রিপোর্টে কয়েকটি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থানের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, বাংলাদেশে এ খাতে কর্মসংস্থানের হার খুবই কম। মোট কর্মসংস্থানের মধ্যে মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ লোক আইসিটি পেশাজীবী।
ডিজিটাল প্রযুক্তি কীভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহকে সহজ ও সাশ্রয়ী করেছে তার ওপর বিশ্লেষণ রয়েছে এই রিপোর্টে। এ ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের উদাহরণ রয়েছে। বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ ২০১৪ সালে ৭ শতাংশ কমেছে।
ডিজিটাল আইডি কার্ডের উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের নাম এসেছে। বাংলাদেশে নানা ধরনের ডিজিটাল পরিচয়পত্র স্কিম চালু হয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।