পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর রাজধানী ওয়াগাদুগুর একটি হোটেলে বন্দুকধারীদের হামলায় কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছেন। হামলাকারীরা হোটেলের ভেতর বেশ কয়েকজনকে জিম্মি করেছে।
বিবিসি ও এএফপির খবরে জানানো হয়, স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় এ হামলা হয়।
বুরকিনা ফাসোতে নিয়োজিত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জিল চিবোঁ বলেন, স্থানীয় সময় আজ শনিবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত সেখানে কারফিউ জারি করা হয়েছে।
ওই হোটেলে পশ্চিমা দেশ থেকে আসা পর্যটকেরা থাকেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি পর্যবেক্ষক দল বলছে, সন্ত্রাসী সংগঠন আল কায়েদা এ হামলার দায় স্বীকার করেছে— তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকজন মুখোশ পরা বন্দুকধারী স্প্লেনডিড নামে ওই হোটেলে আচমকা হামলা চালায়। এর আগে হামলাকারীরা হোটেলের বাইরে গাড়িবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে দেয়া এক বার্তায় বুরকিনা ফাসোতে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জিল চিবোঁ জানান, জিম্মিদের মুক্ত করতে অভিযান চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হোটেলের একটি অংশে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
বুরকিনা ফাসোর হাসপাতালের প্রধান রবার্ট সাঙ্গারে বলেন, হামলায় কমপক্ষে ২০ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন।
জিহাদিদের নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণকারী একটি দল বলছে, ইসলামিক মাগরেবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জঙ্গি দল আল কায়েদা হামলার দায় স্বীকার করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বন্দুকধারীরা প্রথমে হোটেলের কাছে কাপুচিনো ক্যাফেতে ঢোকে। ওই ক্যাফেটি সাধারণত জাতিসংঘের কর্মকর্তা ও পশ্চিমারা ব্যবহার করেন। বার্তা সংস্থা এএফপির এক কর্মীও হামলার সময় ওই ক্যাফেতে ছিলেন। তিনি বলেন, সেখানে বেশ কয়েকজনকে হত্যা করা হয়েছে।
হোটেলটি বুরকিনা ফাসোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেই।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ৭৫ সদস্য বুরকিনা ফাসোতে নিয়োজিত। মার্কিন সেনাবাহিনী বলেছে, হোটেলে চালানো অভিযানে ফ্রান্সের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী রক্ষাকারী বাহিনিকে তারা সহায়তা করতে প্রস্তুত।
গত নভেম্বর মাসে মালির একটি হোটেলে জঙ্গি হামলায় ২০ জন নিহত হয়। ওই হামলার দায় স্বীকার করে আল মৌরাবিতুন ও আল কায়েদা জঙ্গিরা। ওই হোটেলেও বেশ কয়েকজনকে জিম্মি করে জঙ্গিরা।