পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে বাচা খান বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার বন্দুকধারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে ২৫ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নিষিদ্ধ তেহেরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে--উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি টেনেছে দেশটির সেনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সূত্র: এএফপি, রয়টার্স ও ডন অনলাইন।
খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের চারসাদ্দা শহরে অবস্থিত ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দুকধারীরা প্রবেশ করে হামলা চালায়।
ডন সূত্র মতে, গুলির পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দও শোনা গেছে।
বাচা খান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফজল রহিম মারওয়াত বলেন, বন্দুকধারীরা দক্ষিণ দিক থেকে হামলা চালাতে শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী-পুরুষ শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। তবে কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে তিন হাজারের মতো শিক্ষার্থী আছে। হামলার খবরে এসব শিক্ষার্থীর উদ্বিগ্ন স্বজনেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে জড়ো হন। তবে অভিযান পরিচালনাকারীদের পক্ষ থেকে সাংবাদিক ও অন্যদের ঘটনাস্থলের দূরে থাকতে বারবার সতর্ক করে দেয়া হয়।
বেসরকারি সংস্থা ইদি ফাউন্ডেশনের এক স্বেচ্ছাসেবক প্রাথমিক পর্যায়ে দাবি করেন, তিনি নিজে কমপক্ষে ১৫জনের মরদেহ দেখেছেন। হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া একজন প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন অধ্যাপকও আছেন।
উদ্ধারকারীরা বলেন, কমপক্ষে ৫০ জন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করার পর ২০টির মতো অ্যাম্বুলেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছে।
অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করে সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লে. জেনারেল অসিম বাজওয়া বলেন, চার হামলাকারী নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তাকর্মীরা ভেতরে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। চার হামলাকারীর শরীরে আত্মঘাতী বিস্ফোরকবাহী কোমড়বন্ধনী ছিল। তবে সেগুলোর বিস্ফোরণ ঘটানোর আগেই নিরাপত্তাকর্মীদের গুলিতে চার হামলাকারী নিহত হয়।
এদিকে, প্রাদেশিক মন্ত্রী শাহ ফারমান সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভেতরে ৫৪ জন নিরাপত্তাকর্মী অবস্থান নিয়েছে। প্রায় ২০০ জনকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কক্ষে রাখা হয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী সময়মতো উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করায় ব্যাপক প্রাণহানি এড়ানো গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকে টেলিফোনে সাহায্য চেয়ে এক নারী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, ব্যাপক গোলাগুলি চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফজল রহিম মারওয়াত বলেন, বন্দুকধারীরা দক্ষিণ দিক থেকে হামলা চালাতে শুরু করে। গোলাগুলি এখনো চলছে। হামলায় অন্তত তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রহরী এবং অন্য দুজন বেসামরিক ব্যক্তি। এখনো ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি।
এর আগে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পেশোয়ারে সামরিক বাহিনীর একটি বিদ্যালয়ে তালেবানের হামলায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।