রুশ-মার্কিন পরিকল্পনায় ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় শনিবার থেকে সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে— পাঁচ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধ ও রক্তপাতের পর দেশটিতে প্রথম এ ধরনের বড় চুক্তি কার্যকর হয়েছে।
এএফপির খবরে জানানো হয়, গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের শহর আলেপ্পোতে গোলাগুলি বন্ধ হয়ে যায় এর আগের দিনই সেখানে বিদ্রোহীদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় রাশিয়া।
দেশটির মানবাধিকার-বিষয়ক পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, উত্তরের লাত্তাকিয়া প্রদেশ এখন শান্ত। হোমস ও হামা প্রদেশও শান্ত রয়েছে।
আলেপ্পোর দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্রোহী অধ্যুষিত আল কালাসেহ শহরের বাসিন্দা মোহাম্মদ নোহাদ বলেন, গতকাল রাতে যখন ঘুম ভেঙে যায় তখন যুদ্ধবিমানের শব্দে মনে হয়েছিল আগামীকাল-শনিবার আর বেঁচে থাকবো না।
জাতিসংঘের দূত স্তাফান দ্য মিসতুরা বলেন, যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলে ও ঐকমত্যে পৌঁছানোর অন্যতম শর্ত ত্রাণ বাড়ানো হলে আগামী ৭ মার্চ থেকে শান্তি আলোচনা শুরু হবে।
তবে যুদ্ধবিরতি কতটা কার্যকর হবে, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকেরা।
তারা বলছেন, জঙ্গিদল আইএস ও আল নুসরার ওপর হামলা চলতে থাকলে সিরিয়ার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়া কঠিন। তাদের একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, ওই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে আল-কায়েদা সমর্থিত আল-নুসরা ফ্রন্টের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে। নুসরার যোদ্ধারা বিদ্রোহীদের দখলে থাকা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
মার্কিন দূত সামান্থা পাওয়ার বলেন, যুদ্ধবিরতি কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে সহিংসতা কমার আশা রয়েছে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার রুশ-মার্কিন পরিকল্পনায় পুরোপুরি সমর্থন দিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।
সিরিয়ায় পাঁচ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে দুই লাখ ৭০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। সূত্র এএফপি।