বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনার রহস্য উন্মোচনের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে ফিলিপাইনের সিনেট। দেশটির সংবাদ মাধ্যম এএনসিকে সিনেট কমিটির সদস্য সের্গিও ওসমেনা এ কথা জানিয়েছেন।
এদিকে, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় রিজাল ব্যাংকের জুপিটার শাখার ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোসসহ পাঁচজনকে তলব করেছে দেশটির বিচার বিভাগ।
বড় অঙ্কের অর্থ চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা ফিলিপাইনের রিজাল কমার্সিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের জুপিটার শাখার ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোষ দেগুইতোসহ পাঁচজনকে তলব করেছে দেশটির বিচার বিভাগ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরির ঘটনায় দেশটির অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের করা মামলায় তাদের তলব করা হয়।
দেগুইতো ছাড়া অপর ৪ জন জন হলেন: মাইকেল ফ্রান্সসকো রুজ, জেসি খ্রিস্টফার লেগরোরাস, আলফ্রেড সান্তোষ ভারগারা এবং এনরিকো তেয়োদরা ভাসকোয়েজ।
এ ৪ জনের একাউন্টেই বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের চুরি হওয়া অর্থ এসে জমা হয়।
আগামী ১২ ও ১৯ এপ্রিল মায়াসহ ৫ জনকে বিচার বিভাগে হাজির হতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও সাক্ষীসহ হাজির হতে হবে।
এরইমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনার রহস্য উন্মোচনের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে বলে জানিয়েছেন ফিলিপাইনের সিনেট কমিটির সদস্য সের্গিও ওসমেনা। তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে কেবল একজন নয়, একটি গ্রুপ জড়িত রয়েছে। তাদেরকে খুঁজে বের করা হবে।
ওসমেনা আরো বলেন, রিজাল ব্যাংকের জুপিটার শাখার ম্যানেজার মাইয়া সান্তোষ দিগুইতোর সম্মতি সাপেক্ষেই নির্বাহী শুনানিতে দেয়া তার বক্তব্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে চায় সিনেট।
এছাড়া, দেশটির একটি রেডিওতে দেয়া সাক্ষাৎকারে সিনেটর ভিসেন্তে সত্তো বলেন, অর্থ চুরির ব্যাপারে দিগুইতো যা জানেন তা সিনেটের পরবর্তী শুনানিতে প্রকাশ করতে এখন তারা উপায় খুঁজছেন।
এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আমান্দো তিত্যাংকো শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, অর্থ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের সিনেট ও মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানে দেশটির কোনো প্রতিষ্ঠান দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে ফিলিপাইনে সিনেট কমিটির শুনানি আগামী ২৯ মার্চ আবার শুরু হবে।