বাংলাদেশের রিজার্ভের অর্থ চুরির পুরো কল-কাঠি নাড়া হয়েছে চীন থেকেই। চীনা বংশোদ্ভূত কয়েকজন ফিলিপিনো এ ঘটনার হোতা হলেও নীলনকশাটি হয়েছে চীনেই এবং সেখান থেকেই তা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে।
ফিলিপাইন সিনেটের প্রেসিডেন্ট প্রো-টেম্পোর রালফ রেক্টো জানাচ্ছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা চীনে তৈরি, শুধু স্থান-কাল-পাত্রেই এসেছে ফিলিপাইনের নাম।
এদিকে, চুরি হওয়া রিজার্ভের ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার ফেরত পাওয়ার পর জড়িতদের সম্পর্কে আরো তথ্য জানতে রিজাল ব্যাংকের অনুরোধে রুদ্ধদ্বার নির্বাহী শুনানি করবে ফিলিপাইনের সিনেট কমিটি।
কিছু ফিলিপিনো নাগরিক হয়তো বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ৮১ মিলিয়ন ডলার লোপাটের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এ চুরির ঘটনা ফিলিপাইন থেকে নয়, হয়েছে চীন থেকে। এমনটাই মনে করেন ফিলিপাইন সিনেটের প্রেসিডেন্ট প্রো-টেম্পোর রালফ রেক্টো।
তিনি বলেন, সিনেট ব্লু রিবন কমিটির তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এটাই বোঝা যায়, বাংলাদেশের রিজার্ভের অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয় চীনে বসেই। এরই মধ্যে সিনেট শুনানিতে ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিম অং জানান, চুরির অর্থ রিজাল ব্যাংকে নিয়ে আসেন দুই চীনা ব্যবসায়ী- শুহুয়া গাউ ও দিং ঝিজে।
এদিকে, রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় রিজাল ব্যাংকের অনুরোধে নির্বাহী শুনানি করবে সিনেট কমিটি। শুক্রবার কমিটির চেয়ারম্যান তেয়োফিস্তো গুইংগুনা জানান, দেশটির ব্যাংকিং গোপনীয়তা আইন অনুযায়ী সংবেদনশীল তথ্য গোপন রাখতে ৫ এপ্রিল সিনেটের পরবর্তী শুনানিনর সময় এ রুদ্ধদ্বার শুনানি করা হবে।
ব্যাংক সংক্রান্ত সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান সের্গেই ওসমেনা জানিয়েছেন, চুরি হওয়া অর্থ কীভাবে ফিলিপাইনের ব্যাংক হয়ে ক্যাসিনোগুলোতে চলে গেছে তার রহস্য উন্মোচনে সিনেটে আরো দু-তিনটি শুনানি হতে পারে।
এদিকে, প্রথমবারের মতো রিজার্ভের অর্থ চুরির ব্যাপারে গণমাধ্যমে মুখ খুললেন শ্রীলঙ্কার শালিকা ফাউন্ডেশনের প্রধান গামাজ শালিকা পেরেরা। তার দাবি, পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে তার প্রতিষ্ঠানকে ওই দুই কোটি ডলার পাঠায় জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা-জাইকা। ওই অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে রিজার্ভ থেকে চুরি করা কিনা সে বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না।
তবে জাইকা বলছে, শালিকা ফাউন্ডেশন নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের লেনদেনের কোনো সম্পর্ক নেই।