রিজার্ভের চুরি হওয়া অর্থ ছাড় বন্ধে ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঠানো বার্তা অস্পষ্ট থাকায় পেমেন্ট বাতিল করতে পারেনি ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংক। দেশটির সিনেট কমিটির পঞ্চম দফা শুনানিতে এমনটাই দাবি করেন ব্যাংকটির আইন শাখার প্রধান মাসেল এস্তাভিলু।
এদিকে, অর্থ পাচারের ঘটনায় রিজাল ব্যাংক দোষী প্রমাণিত হলে ৮১ মিলিয়ন ডলারের কিছু অংশ বাংলাদেশকে ফেরতের পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্যাংকটির প্রেসিডেন্ট লরেঞ্জো তান। এছাড়া শুনানিতে রেমিটেন্স কোম্পানি ফিলরেম অনিবন্ধিত বলে জানিয়েছে দেশটির রাজস্ব ব্যুরো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে হাই প্রায়োরিটি ম্যাসেজ অর্থাৎ উচ্চ অগ্রাধিকার বার্তা পেলেই চুরি হওয়া রিজার্ভের অর্থ আটকাতে পারত ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংক-আরসিবিসি। ব্যাংকটির আইন শাখার প্রধান মাসেল এস্তাভিলু মঙ্গলবার দেশটির সিনেট কমিটির শুনানিতে এমনটাই দাবি করেছেন।
শুনানিতে ফিলিপাইনের আরসিবিসির আইন শাখার প্রধান মাসেল এস্তাভিলু বলেন, ওই চুরির অর্থ ছাড় বন্ধের জন্য ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঠানো বার্তা অস্পষ্ট থাকায় পেমেন্ট বাতিল করতে পারেনি তারা।
এরইমধ্যে অবশ্য ৫৯.৬৪ মিলিয়ন ডলার উইলিয়াম গো'র আ্যাকাউন্টে ছাড় হয়ে যায়— জানিয়ে এস্তাভিলু বলেন, ৯ ফেব্রুয়ারিতে পাওয়া ওইসব বার্তা যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেই এসেছে তাও বোঝা যায়নি।
তিনি আরো বলেন, রিজালের জুপিটার ব্রাঞ্চে শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতো প্রধান কার্যালয়কে ওই অর্থের ব্যাপারে সতর্ক করতে পারতেন। কিন্তু তা না করে তিনি অর্থ ছাড় করে দেন।
এদিকে, শুনানিতে, অর্থ পাচারে রিজাল ব্যাংক দোষী প্রমাণিত হলে ৮১ মিলিয়ন ডলারের কিছু অংশ বাংলাদেশকে ফেরত দেয়ার পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্যাংকটির প্রেসিডেন্ট লরেঞ্জো তান।
এছাড়াও শুনানিতে দেশটির রাজস্ব ব্যুরোর কমিশনার কিম হেনারেস বলেন, ফিলরেম নিবন্ধিত কোনো রেমিটেন্স কোম্পানি নয়।
তবে ফিলরেমের প্রেসিডেন্ট সালুদ বাউতিস্তা বারবার বলে আসছেন, তার প্রতিষ্ঠান কোনো অবৈধ কাজে জড়িত নয় এবং পেসোতে রূপান্তির করা ওই অর্থ চুরির কিনা সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা ছিল না।