নববর্ষ উদযাপনের এ আনন্দ-উচ্ছ্বাস শুধু বাংলাদেশেই নয়। আমাদের মতো বর্ষবরণের উৎসবমুখরতা খুব কাছাকাছি সময়েই থাকে দক্ষিণ, পূর্ব ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতেও তাই। উৎসব উদযাপনের আঙ্গিক আর ধরনে ভিন্নতা থাকলেও গবেষকরা বলছেন, এ সবই সংস্কৃতির প্রবহমানতা।
বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ ও বৈসাবি, নেপালে মৈথিলী আর আসামে রঙ্গালি বিহু। একই আয়োজন, বর্ষবরণ। নামে ভিন্নতা থাকলেও উদযাপন-ক্ষণ আর পালন-আঙ্গিকে এর মধ্যে যোগসূত্র খোঁজাই যায়।
বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ প্রতি খ্রিস্টাব্দের ১৪ এপ্রিলে। এর ঠিক আগের তিনদিনে হয় পার্বত্য জনপদে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বৈসু-সাংগ্রাই-বিজু নামের বর্ষবরণ। ঠিক একই তারিখে কিংবা কিছুটা আগে-পরে নববর্ষ উদযাপন হয় ভারতের পাঞ্জাব, বিহার, উড়িষ্যা, মণিপুর আর আসাম রাজ্যে। দেশ-জাতিতে বিভিন্নতা থাকলেও সবই নতুন বছর উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা।
একইভাবে উপমহাদেশ ছাড়িয়ে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়া এবং মধ্য এশিয়ায় চোখ রাখলে দেখা যায়, সেখানেও দেশে দেশে নববর্ষ পালিত হয় মধ্য মার্চ থেকে মধ্য এপ্রিলের ভেতরেই। থাইল্যান্ডে নববর্ষ-উৎসবের নাম সংক্রান, লাওসে
পি- মেই। মায়ানমার, ভিয়েতনামের উদযাপনও কাছাকাছি। রয়েছে চীনা নববর্ষেরও সুপ্রাচীন ঐতিহ্য। দেখা মেলে ইরানি নববর্ষ উৎসব নওরোজের প্রভাবও। কৃষ্টি-সংস্কৃতির এই প্রবহমানতায় সব উৎসবই বর্ণিল-- আছে সঙ্গীত, লোকজ আচার-অনুষ্ঠান ও মানুষের উচ্ছাস-মুখরতা।
দক্ষিণ ভারতের অনেক রাজ্যে অবশ্য নববর্ষ পালিত হয় চৈত্র মাসে। কাশ্মীর, ইরান, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তানে বর্ষবরণ উৎসব হয় মার্চের শেষভাগে। ঋতুর উদযাপন, কৃষি, ফসল কাটার সম্পর্কই এর মূলে।
দেশে দেশে যে নামে আর যে আঙ্গিকেই বর্ষবরণ উদযাপন হোক না কেন সব উৎসবের বহমানতাই স্ব-জাতি ও স্ব-দেশের সংস্কৃতি-কৃষ্টিকেই সমৃদ্ধ করছে, সমৃদ্ধ করে যাবে।