বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর জন্য অর্থায়নে জড়িত থাকার অভিযোগে সিঙ্গাপুরে আটক ৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৪ জন তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে।
গত শুক্রবার ওই ছয়জনের বিরুদ্ধে দেশটির আদালতে অভিযোগ আনা হয়। অন্য দুজন তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ দুই জনের ব্যাপারে আগামী ২১ জুন আদালত রায় দেবে।
সিঙ্গাপুর পুলিশ গত ২৭ মে ওই আটজনের মধ্যে ছয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। এদের মধ্যে চারজন মঙ্গলবার আদালতে তাদের অপরাধ স্বীকার করে নেয়।
এ চার বাংলাদেশি হলেন: মিজানুর রহমান, রুবেল মিয়া, মো. জাবেদ কায়সার হাজি নুরুল ইসলাম সওদাগর ও ইসমাইল হাওলাদার। তবে, দৌলতুজ্জামান ও লিয়াকত আলী নামে আটক আরো দুই বাংলাদেশি তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সিঙ্গাপুরের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, মিজানুর রহমান নামের ওই বাংলাদেশীর নেতৃত্বে ইসলামিক স্টেট ইন বাংলাদেশ-আইএসবি নামে এক গোপন সংগঠন গড়ে তোলা হয়। মিজানুর এর আগে ৩ বার আইএসে যোগ দিতে চেয়েছিল, কিন্তু তুরস্ক ও আলজেরিয়ার ভিসা না পেয়ে সে সিঙ্গাপুরে কাজ করতে আসে। ৩১ বছর বয়সী মিজানুর আদালতে তার বিরুদ্ধে আনা চারটি অপরাধের মধ্যে দুটি স্বীকার করেছে।
অভিযুক্ত এসব বাংলাদেশিরা দেশে ফেরার পর ‘অবিশ্বাসী’ ব্যাক্তিদের খুজে বের করে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল বলে কৌসুলিরা সিঙ্গাপুর আদালতকে জানিয়েছেন।
এদিকে, জঙ্গি অর্থায়নে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের ১০ বছরের কারাদণ্ড সেই সঙ্গে পাঁচ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার জরিমানা হবে। তবে দোষ স্বীকার করে নেয়া ওই চার বাংলাদেশির সাজা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এ ব্যাপারে আগামী ২১ জুন শুনানি হবে।
এর আগে আইএস ও আল কায়েদাসহ জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত বছর সিঙ্গাপুর সরকার ২৭ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে ২৬ জনকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ১৪ জন এখন কারাগারে।