ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর নাইটক্লাবে হামলাকারী আফগান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ওমর মতিন মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলেই জানিয়েছেন তার সাবেক স্ত্রী সিতোরা ইউসুফি।
মতিনের উদ্ধৃত আচরণ ও নির্যাতনের কারণে তাদের সংসার টিকেছিল মাত্র চারমাস। গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সিতোরা এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘যখন তার খুব রাগ হতো সে আমার সঙ্গে আজেবাজে ভাষায় কথা বলত। শারিরীকভাবেও নির্যাতন করতো সে। ওমর মানসিকভাবে অসুস্থ। আর একারণেই আমি তাকে ছেড়ে এসেছি ।’
এদিকে, ওমরের বাবা জানিয়েছেন ধর্মের কারণে নয় বরং সমকামিতার প্রতি ঘৃণা থেকেই তার ছেলে এ কাজ করেছে।
ফ্লোরিডার নাইটক্লাবে হামলাকারী বন্দুকধারী ওমর মতিনের জন্মের আগেই তারা বাবা-মা আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ১৯৮৬ সালে নিউইয়র্কে ওমরের জন্ম। যদিও পরে তিনি ফ্লোরিডাতে বসবাস শুরু করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী তালিকায় তার নাম না থাকলেও সহকর্মীদের ব্যাপারে আপত্তিকর মন্তব্য করায় ২০১৩ ও ১৪ সালে দুদফায় তাকে এফবিআই জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।
ওমরের বাবা সিদ্দিক মতিন জানিয়েছেন, সমকামীদের ব্যাপারে তার ছেলের মনে যে এতখানী ঘৃনার জন্ম হয়েছে তা তিনি আঁচ করতে পারেননি।
তিনি এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে বলেন, পুরো দেশবাসীর মতো তারাও এ ঘটনায় ব্যথিত।
এছাড়া, জিফোরএস কোম্পানিতে চাকরি করার সময় ২০০৭ এবং ২০১৩ সালে তাকে দুবার পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু সে সময়ও কোনো উদ্বেগজনক কোনো কিছু তার মধ্যে পরিলক্ষিত হয়েছিল না বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
তবে ওমরের বাবা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হামলার সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। সমকামিতার প্রতি ঘৃণা থেকেই তার ছেলে এ কাজ করেছে।
এ হামলার কয়েকদিন আগে বৈধ উপায়ে বেশ কয়েকটি বন্দুক কিনেছিলেন ওমর।