দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দখলে থাকা ইরাকি শহর ফাল্লুজার কেন্দ্রস্থলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরাকি বাহিনী।
শুক্রবার ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি শহরটির কেন্দ্রস্থল ইরাকি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসার পর ওই দিন রাতে ফাল্লুজা লড়াইয়ে জয় ঘোষণা করেছেন।
শহরটি পুনরুদ্ধারে চার সপ্তাহ আগে শুরু করা অভিযান এ ঘোষণার মাধ্যমে পূর্ণতা পেলেও শহরটির উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো আইএস যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ওই অংশ আইএসমুক্ত করার লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রেখেছে সরকারি বাহিনী।
অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আইএস-বিরোধী আন্তর্জাতিক জোট বাহিনী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়ে সরকারি বাহিনীকে সমর্থন রয়েছে।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে সড়কপথে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত শহরটির পৌরভবন পুনুরুদ্ধার করেছে সরকারি বাহিনী। কিন্তু শহরটির আইএস নিয়ন্ত্রিত অংশের রাস্তা ও বাড়িগুলোতে বিস্ফোরক স্থাপন করে রেখেছে জঙ্গিরা।
সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শহরটির পৌরভবনের উপর রাষ্ট্রীয় পতাকা উড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশ কার্টার জানিয়েছেন, ইরাকি বাহিনী শহরটির একাংশ পুনরুদ্ধার করেছে পাশাপাশি আরো লড়াই বাকি আছে।
ইরাকের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী শহরটির ভিতরে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে তবে এখনো কিছু পকেট রয়ে গেছে যেগুলো পরবর্তী ঘণ্টাগুলোতে পরিষ্কার করতে হবে।
শুক্রবার সকালে সরকারি বাহিনী ফাল্লুজার পৌরভবনের একশ’ মিটার দূরে থাকাকালে একটি বড় মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলে আইএসের লক্ষ্যভেদীদের নিশানার মধ্যে পড়ে যায়। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই শুরু হয়। পরে কামানের গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলায় আইএসের প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।
সামরিক বাহিনী বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফাল্লুজায় প্রধান সড়ক বাগদাদ স্ট্রিট ধরে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ এগিয়ে যাচ্ছে আর সন্ত্রাস-বিরোধী সার্ভিসের (সিটিএস) কমান্ডোরা ফাল্লুজা হাসপাতালকে ঘিরে রেখেছে।
সিটিএসের মুখপাত্র সাবাহ আল নুমানি জানিয়েছেন, শহরের প্রধান ওই হাসপাতালের ভিতরে আইএসের লক্ষ্যভেদীরা লুকিয়ে আছে।
এত দিন শহরটির বেসামরিক বাসিন্দাদের শহর ছেড়ে চলে যেতে বাধা দিচ্ছিল আইএস। কিন্তু গত সপ্তায় হঠাৎ করে আটকেপড়া বাসিন্দাদের শহর ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দিতে শুরু করে গোষ্ঠীটি।
এতে শুধু বৃহস্পতিবার ছয় হাজারেরও বেশি পরিবার শহর ছেড়ে যায়। এ কারণে শহর ছেড়ে আসা মানুষের সংখ্যা প্রত্যাশাকে ছড়িয়ে যায়।
জাতিসংঘের হিসাবে শহরটিতে আটকে পড়া ৯০ হাজার বাসিন্দার মধ্যে শুক্রবার পর্যন্ত ৬৮ হাজার মানুষ শহর ছেড়েছেন।
ফাল্লুজা পুনরুদ্ধারের পর এবার আইএসের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুল পুনরুদ্ধারে ইরাকি সরকার ও যুক্তরাষ্ট্র নজর দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।