যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) থাকবে কি-না আর মাত্র একদিন বাদেই সে প্রশ্নে গণভোট হতে যাচ্ছে। তাই ইইউতে থাকার পক্ষের এবং বিপক্ষের দুই শিবিরই শেষ সময়ে ভোটারদের কাছে তাদের আবেদন জানাচ্ছেন। অংশ নিয়েছেন সরাসরি টিভি বিতর্কে।
শেষ দিনের এ প্রচারণায় মঙ্গলবার দেশটির ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২ ঘণ্টাব্যাপী এ বিতর্কে উপস্থিত ছিলেন ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ।
বিবিসিতে সরাসরি সম্প্রচারিত এ বিতর্কে অভিবাসন, অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে বাকযুদ্ধে লিপ্ত হন উভয় পক্ষের নেতারা।
এদিকে, সর্বশেষ জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, পক্ষে ও বিপক্ষে জনসমর্থন প্রায় সমান সমান।
ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকবে কী থাকবে না, তা নিয়ে বৃহস্পতিবারের গণভোটকে সামনে রেখে দেশটির স্মরণকালের বৃহত্তম সরাসরি বিতর্কে মুখোমুখি হয়েছেন পক্ষে-বিপক্ষের সামনের সারির নেতারা। ৬ হাজার দর্শকের সামনে বাকযুদ্ধে লিপ্ত হন তারা।
বিবিসিতে সরাসরি সম্প্রচারিত এ গ্রেট ডিবেটে দুই ঘণ্টা ধরে অভিবাসন, অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে তর্কযুদ্ধ করেন দুই শিবিরের নেতারা।
যারা ইইউ থেকে বেরিয়ে যেতে চান সেই লিভ পক্ষে ছিলেন লন্ডনের সাবেক মেয়র বরিস জনসন। তিনি বলেন, রিমেইন পক্ষ কথা দিয়ে দেশকে ছোট করছে। তবে ব্রিটেনবাসী যদি লিভকে ভোট দেয় তাহলে বৃহস্পতিবার হতে পারে যুক্তরাজ্যের স্বাধীনতা দিবস।
অন্যদিকে রিমেইন পক্ষে স্কটিশ টোরি নেতা রুথ ডেভিডসন লিভ কে মিথ্যের পক্ষ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে।
নইলে শুক্রবার সকালে ব্রিটিশদের আর ফেরার সুযোগ থাকবে না। তবে এই বিতর্কে বরিস জনসন ও লন্ডনের মেয়র সাদিক খান যখন মুখোমুখি হন, তখন বেশ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
এর আগে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে বক্তব্য দেওয়ার সময় যুক্তরাজ্যের ইইউতে থাকার পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণকে সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। তবে ইইউতে বৃটেনের থাকা না শুধু সেদেশের জন্যই নয়, গোটা ইউরোপের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করছে এই ভোট।
কেননা যুক্তরাজ্যের নিজস্ব অর্থনীতি, রাজনীতি রাষ্ট্রব্যবস্থাতেও নতুন মোড় নিয়ে আসতে পারে এ গণভোটের ফলাফল।