যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) থাকবে কি-না সে প্রশ্নে এরইমধ্যে দেশটিতে গণভোট শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২ টায় শুরু হওয়া এই ভোট চলবে ১৫ ঘন্টা।
প্রায় ৪ কোটি ৬৫ লাখ ভোটার ঐতিহাসিক এ গণভোটে অংশ নিচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যত নির্ধারণের এই গণভোটের দিকে তাকিয়ে সারা বিশ্ব।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ যুক্তরাজ্যের সব বন্ধু রাষ্ট্রের চাওয়া ব্রিটেন ইইউ'র সঙ্গে থাকুক। তবে ব্রিটিশরা কি চান--তা জানা যাবে শুক্রবার সকাল নাগাদ ভোটের ফলাফলের মধ্য দিয়ে।
যুক্তরাজ্যের চার প্রদেশ-ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের পাশাপাশি স্পেন উপকূলের অদূরের ব্রিটিশ শাসিত ক্ষুদ্র ভূখন্ড জিব্রাল্টার অধিবাসীরা এ গণভোটের রায় দেবেন। সব মিলিয়ে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৬৫ লাখ। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল নাগাদ ভোটের ফলাফল জানা যাবে।
মূলত ইইউ'র উন্মুক্ত নীতির কারণে যুক্তরাজ্যে অন্যান্য ইইউ সদস্যদেশ থেকে আসা অভবিবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও এর ফলে সৃষ্ট বিতর্কের জের ধরেই এ গণভোটের আয়োজন।
গত সাধারণ নির্বাচনের আগে ডেভিড ক্যামেরন দেশবাসীর কাছে ২০১৭ সালে মধ্যে এ নিয় গণভোটের অঙ্গীকার করেছিলেন। তবে তিনি নিজে ইইউতে থাকার পক্ষ।
তবে গণভোটকে কেন্দ্র করে এখন পুরো জাতি দ্বিধাবিভক্ত। তবে সর্বশেষ জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, পক্ষে-বিপক্ষের জনসমর্থন প্রায় সমান সমান। আর ৯ শতাংশ ভোটার এখনো দোদুল্যমান।
গত ৪ মাস ধরে ইইউতে থাকার পক্ষে-বিপক্ষে দেশব্যাপী তুমুল প্রচারণা চলে। প্রচারণার মূল ইস্যু অভিবাসন ও অর্থনীতি। ইইউতে থাকার পক্ষের শিবিরের যুক্তি হলো- ইইউ থেকে বের হয়ে গেলে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ধসে পড়বে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাজ্যের প্রভাব ও স্বার্থ খর্ব হবে।
আর বিপক্ষ শিবিরের অভিযোগ, ইইউতে থেকে অভিবাস নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। অর্থনীতি, আইন প্রণয়ন ও বিচারের ক্ষেত্রে ইইউ'র নির্দেশনাও যুক্তরাজ্যের সার্বভৌমত্বকে খর্ব করেছে।
তারা বলছেন, দেশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে ফিরিয়ে আনার এটাই মোক্ষম সময়।