গণভোটের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইইউ থেকে নিজেদের আলাদা করে ফেলার পক্ষে রায় দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের বেশিরভাগ মানুষ।
এখন প্রশ্ন উঠেছে ৪৩ বছরের বন্ধন ছিড়তে কি করতে হবে যুক্তরাজ্যকে? সংশ্লিষ্টরা বলছেন অন্তত দুই বছর সময় লেগে যেতে পারে এরজন্য। এরইমধ্যে যুক্তরাজ্যকে ইইউ ত্যাগের আলোচনা শুরু করতে আহ্বান জানিয়েছেন ইইউর নেতারা। দেরি হলে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন তারা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫৯ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় বলা হচ্ছে ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়াকে।
বৃহস্পতিবার গণভোটের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের ৫২ শতাংশ মানুষ ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে ভোট দেন। এ অবস্থায় ৪৩ বছরের সম্পর্কের কিভাবে ইতি টানা হবে তা নিয়ে চলছে আলোচনা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের সদস্যপদ বাতিলের জন্য যুক্তরাজ্যকে অবশ্যই লিসবন চুক্তির আর্টিকেল ফিফটি আহ্বান করতে হবে। এরপর যুক্তরাজ্য ইইউর বাকি ২৭ দেশের সঙ্গে তার সদস্যপদ বাতিলের বিষয়ে আলোচনা করবে। এ ক্ষেত্রে যে কোনো শর্তেই যে কোনো দেশেরই ভেটো দেয়ার অধিকার রয়েছে।
পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে। আর এই সময় যুক্তরাজ্যকে অবশ্যই ইইউর আইন এবং তাদের সঙ্গে করা চুক্তিগুলি মেনে চলতে হবে।
এদিকে, যুক্তরাজ্যকে দ্রুতই ইইউ ছাড়ার আলোচনা শুরু করতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন ইইউর নেতারা। দেরি হলে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা তৈরি হবে বলে মনে করছেন তারা।
গণভোটের প্রভাব নিয়ে আলোচনার জন্য ইইউর প্রতিষ্ঠাতা ছয়টি দেশ ফ্রান্স, জার্মান, নেদারল্যান্ডস, লুক্সেমবার্গ, ইতালি ও বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আগামী শনিবার আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন।
এছাড়া, আগামী সপ্তাহেই ব্রাসেলসে ইইউ জাতিসমূহের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণ ছাড়াই।