গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর এবার বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া শেষ করতে দ্রুত আলোচনা শুরুর জন্য ব্রিটেনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইইউ রাষ্ট্রগুলো।
বার্লিনে ইইউর প্রতিষ্ঠাতা ৬ সদস্য রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠকের পর এ আহ্বান জানানো হয়।
এরইমধ্যে ইইউতে না থাকার পক্ষে গণরায়ের পর স্কটল্যান্ড যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীন হয়ে যাবে কিনা-সে প্রশ্নে গণভোটের জন্য আইন প্রণয়নে রাজি হয়েছে স্কটিশ সরকার।
এদিকে, ব্রেক্সিটের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মূডিস সূচকে অবনমন ঘটেছে যুক্তরাজ্যের।
শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে গণরায়ের পর টালমাটাল পুরো বিশ্ব পুঁজিবাজার। গণভোটের পরপরই যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি সম্পর্কে নেতিবাচক পূর্বাভাস দিয়েছে ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মূডি। এতে বলা হয়, ব্রেক্সিটের ফলে ব্রিটেন দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পথে যাত্রা শুরু করেছে।
সংস্থাটি বলছে, ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় ব্রিটেনের অর্থনীতি আরো দুর্বল হয়ে পড়বে।
এ পরিস্থিতিতে ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছেদের জন্য দ্রুত আলোচনা শুরু করতে ব্রিটেনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইইউভুক্ত সদস্য দেশগুলো। এ বিষয়ে আলোচনা যত দ্রুত সম্ভব শুরু করা উচিত বলে মন্তব্য করেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাংক- বাল্টার স্টাইনমায়ার।
তিনি আরো বলেন, সদস্যদেশগুলো যাতে ইউরোপের ভবিষ্যতের দিকে নজর দিতে পারেন সেজন্য দ্রুত আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূণ। বার্লিন জরুরি এ বৈঠকে অংশ নেন জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ ও নেদাল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
এরইমধ্যে, স্কটল্যান্ড যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে যাবে কিনা-সে প্রশ্নে গণভোটের জন্য আইন প্রণয়নে রাজি হয়েছে স্কটিশ সরকার।
শনিবার মন্ত্রসিভার বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন দেশটির ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলো স্টারজন।
তিনি জানান, ইইউতে প্রবেশের বিষয়ে সংস্থাটির নেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলাপ করবে তার সরকার।
জার্মানির পোস্টড্রামে এক সংবাদ সম্মেলনে চ্যান্সেল অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বলেন, যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া ইস্যুটি নিয়ন্ত্রণের জন্য ইইউ যথেষ্ট শক্তিশালী। বাহ্যিক নিরাপত্তা যথারীতি গুরুত্ব পাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গত বুধবার প্রথমবারের মতো ব্রাসেলসে ব্রিটেনকে ছাড়াই বৈঠকে বসছে ইইউভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। এরইমধ্যে ইইউর সদস্যপদ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো গণভোটের ডাক দিতে একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাজ্যের ১০ লাখ মানুষ।
এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে ব্রিটিশ জনগণের রায়ের প্রভাব পড়েছে ইইউ-জোটের অন্যান্য দেশেও। ব্রিটেনের পদাঙ্ক অনুসরণ করে নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, সুইডেন এবং ফ্রান্সে গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছে ডানপন্থি ও অভিবাসন বিরোধী দলগুলো।