মদিনায় মহানবীর (সা.) মসজিদ নববীর কাছে আত্মঘাতী বোমা হামলায় চার নিরাপত্তারক্ষী নিহত হয়েছেন।
সৌদি আরবের টেলিভিশন স্টেশন আল আরাবিয়া জানিয়েছে, সোমবার মাগরিবের নামাজের সময় মসজিদের পার্কিং এলাকার প্রধান নিরাপত্তা চৌকিতে এ হামলা হয়।
সৌদি নিরাপত্তাবাহিনীর এক মুখপাত্র রয়টার্সকে জানান, দর্শনার্থীদের সঙ্গে পার্কিং এলাকা থেকে মসজিদে নববীর দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন হামলাকারী।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির মুখোমুখি হলে সে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেকে উড়িয়ে দেয়— এতে চার নিরাপত্তারক্ষী ও হামলাকারী নিহত হন।
হামলায় আরও পাঁচ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
তবে আল আরাবিয়ার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আত্মঘাতী হামলাকারী নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে ইফতার করার আগ্রহ দেখিয়ে তাদের পাশে আসেন এবং পরে বিস্ফোরণ ঘটায়।
প্রত্যক্ষদর্শী একজন বিবিসিকে জানান, বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তারা প্রথমে একে সন্ত্রাসী হামলা মনে করেননি।
আমরা ভেবেছি এটি ইফতারের জন্য কামান থেকে ছোঁড়া গোলার শব্দ, যা শুনে আমরা রোজা ভাঙব। তবে মাটি বেশ জোরে দুলে উঠেছিল, চারপাশ কাঁপছিল, মনে হচ্ছিল বিল্ডিং ধসে পড়বে-- বলেন ৩৬ বছর বয়সী কারী জিয়াদ পাটেল।
মক্কার কাবা শরীফের পরে মুসলমানদের কাছে সবচেয়ে পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত এ মসজিদে নববী।
মদিনায় ওই হামলার কাছাকাছি সময় পূর্বাঞ্চলীয় শহর কাতিফে একটি শিয়া মসজিদের কাছেও বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সেখানে একজনের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ওই মৃতদেহ হামলাকারীর বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
২০১৪ সালের মাঝামাঝি থেকে সৌদি আরবে আইএসের ধারাবাহিক হামলায় অনেকে নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই শিয়া মতাবলম্বী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
গত বছর কাতিফে শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত হওয়ার পর ওই এলাকার মসজিদগুলো ঘিরে নিরাপত্তা বাড়ায় পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা।
বছরখানেক আগে একটি মসজিদে আরেকটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১৫ জন নিহত হয়।