জঙ্গিদের হিংস্র হামলায় রক্তাক্ত হয়েছে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁ। আর স্বজন হারানোর এ শোক অনেক গভীরভাবে ছুঁয়েছে ইতালিকে। হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় নিহত ২০ জনের মধ্যে ৯ জনই যে ছিলেন ইতালির নাগরিক। নিহতদের মধ্যে ছিলেন এক সন্তানসম্ভবা মা। এ নৃশংস হামলা কেড়ে নিয়েছে তার গর্ভের শিশুটিকেও। এরই মধ্যে বিশেষ বিমানে রোমে পৌঁছেছে নিহত ইতালীয়দের মরদেহ। শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর অশ্রুসজল চোখে তাদের কফিন গ্রহণ করেছেন স্বজনেরা।
গত শুক্রবার রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলাকারী সশস্ত্র জঙ্গিরা আগতদের জিম্মি হিসেবে আটকের পর দেশি ও বিদেশি ২০ নাগরিককে নৃশংসভাবে ধারালো অস্ত্রে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে ৯ জনই ইতালির নাগরিক।
নিহত ইতালীয় নাগরিকদের মধ্যে রয়েছেন বারিধারাভিত্তিক বায়িং হাউজ স্টুডিও টেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাদিয়া বেনেদিত্তি এবং গুলশান ২ নম্বরের আরেক ইতালীয় বায়িং হাউজ ডেকাওয়ার্ল্ডের প্রাইভেট লিমিটেডের এমডি ভিনচেনসো দালেস্ত্রো। এ ছাড়া জঙ্গিদের হাতে নিহত ক্লাউদিয়া দান্তোনা, আদেলে পুলিজি, ক্রিস্তিয়ান রসি, মার্কো তোন্দাৎ, সিমোনা মন্তি, ক্লাউদিয় কাপেল্লি ও মারিয়া রিবেলি--টেক্সটাইল ব্যবসার কাজে বাংলাদেশে এসেছিলেন।
গুলশান হামলার খবর জানার পরপরই ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলা তার লাতিন আমেরিকা সফর সংক্ষিপ্ত করে রোমে ফেরেন। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো জেনতিলোনি বিমানবন্দরে নিহত নাগরিকদের কফিনের জন্য অপেক্ষা করেন। উপস্থিত হয়েছিলেন নিহতদের শোকাহত স্বজনরাও। অবশেষে মঙ্গলবার নিহতদের কফিনবাহী সামরিক বিমানটি রোমে অবতরণ করে।
ইতালির জাতীয় পতাকায় মোড়ানো নয়টি কফিন বিমান থেকে নামানোর সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। যাজকরা কফিনে পবিত্র পানি ছিটিয়ে দেন। কফিনের সামনে শোকস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন নিহতদের স্বজনরা। কফিন ছুঁয়ে অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় শেষবারের মতো বিদায় জানান তারা।
এদিকে, নিহত ইতালি নাগরিকদের স্মরণে রাজধানী রোমের একটি ভবনের দেয়ালে গুলশানের ঘটনার সংবাদ ও ছবি সংবলিত পত্রিকা বিশেষ ব্যবস্থায় লাগিয়ে দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত: গত শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হত্যাযজ্ঞ চালায় জঙ্গিরা। ১২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর জিম্মি সংকটের রক্তাক্ত অবসান ঘটে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেনা নেতৃত্বাধীন সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে। অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের জঙ্গিরা আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছিল। এ ২০ জনের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি নাগরিক ও ৩ জন বাংলাদেশি। উদ্ধার অভিযানে নিহত হয় আরো ছয় জন। এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথম দফা উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। আহত হন কমপক্ষে ৪০ জন পুলিশ সদস্য।