যুক্তরাষ্ট্রে শ্বেতাঙ্গ পুলিশের গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গ এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর ডালাসে বিক্ষোভের মধ্যে ৫ পুলিশ সদস্যকে গুলিতে হত্যা করা হয়েছে।
ডালাস পুলিশের প্রধান ডেভিড ব্রাউনকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে সেখানে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টায় ডালাস শহরে কৃষ্ণাঙ্গদের বিক্ষোভ শুরুর পর দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর গুলি চালায় স্নাইপার রাইফেলধারীরা। এ সময় মিছিলকারীদের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটোছুটি শুরু হয়ে যায়।
ব্রাউন জানান, এ ঘটনায় আরো কমপক্ষে সাত পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন যাদের মধ্যে দুজনের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, অন্তত দুইজন স্নাইপার উঁচু কোনো জায়গায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভের কাছে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের অ্যামবুশ করে।
পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে আটক করার কথা জানিয়েছে— আরো এক অস্ত্রধারী অবস্থান নিয়েছেন কোনো একটি গ্যারেজে; তাকে ধরতে বাইরে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।
মিনিয়াপলিস এলাকায় বুধবার কৃষ্ণাঙ্গ এক ব্যক্তি পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে মারা যান তারপর থেকে এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ফিলান্ডো ক্যাস্টিল (৩২) নামের ওই যুবককে পুলিশ গুলি করার পরপরই তার সঙ্গে থাকা এক নারী ফেইসবুকে দেয়া ভিডিওতে দাবি করেন, ‘যথাযথ কারণ ছাড়াই’ পুলিশ তার বন্ধুকে গুলি করেছে। ১০ মিনিটের ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়। ক্যাস্টিলের পরিবারের দাবি, ওই নারী তার বাগদত্তা।
ক্যাস্টিলের মা ভালেরি ক্যাস্টিল সিএনএনকে বলেন, আমি এই জীবনে একবারের জন্যও ভাবিনি আমার ছেলেকে এমন ব্যক্তিরা হত্যা করতে পারে যাদের দায়িত্ব আসলে তাকে সুরক্ষা করা ও সেবা দেয়া।
ক্যাস্টিলের মা জানান, একটি স্কুলের ক্যাফেটেরিয়ার সুপারভাইজার ছিলেন এবং নিজের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অনুমতিও তার ছিল।
ক্যাস্টিলের বান্ধবী বলেন, গাড়ির পেছন দিকের একটি লাইট ভাঙা থাকায় পুলিশ তাদের গাড়ি থামায়। পুলিশের প্রশ্নে চালকের আসনে বসা ক্যাস্টিল লাইসেন্স করা একটি অস্ত্র সঙ্গ থাকার কথা জানায়।
এক পর্যায়ে তিনি পকেট থেকে আইডি কার্ড ও ওয়ালেট বের করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা তাকে গুলি করেন।
সেখানে তাকে কাঁদতে কাঁদতে পুলিশকে বলতে শোনা যায়, ‘দয়া করে বলবেন না সে মারা গেছে— দয়া করে বলবেন না সে মারা গেছে... আপনি তাকে চারবার গুলি করেছেন, স্যার, এটা তার প্রাপ্য ছিল না সে ভাল মানুষ ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্গুসন, মিসৌরি, বাল্টিমোর ও নিউইয়র্কে গত দুই বছরে শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গদের মৃত্যুর ঘটনা ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যাস্টিলকে ধরে যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর এখন পর্যন্ত পুলিশের গুলিতে ৫০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১২৩ জন কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান।