বিশ্ব্যব্যাপী শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আন্তঃদেশ ও জাতির মধ্যে স্বচ্ছন্দ চলাফেরা এবং কানেক্টিভিটি স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটোরে এশিয়া-ইউরোপ মিটিং-আসেম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্রথম দিনের অধিবেশনে সমৃদ্ধির জন্য কৌশলগত সুযোগ হিসেবে কানেক্টিভিটিকে কাজে লাগানোর আহবান জানান তিনি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসময় গুলশান হামলায় নিহত জাপানি নাগরিকদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। আগামীকাল সন্ধ্যায় দেশে ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
আসেম-এর ২০ বছর: কানেক্টিভিটির মাধ্যমে ভবিষ্যতের অংশীদারিত্ব' শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে মঙ্গোলিয়ায় রাজধানী উলানবাটোরের হোটেল শাংরি-লায় শুরু হয় ১১তম আসেম শীর্ষ সম্মেলন। আসেমভুক্ত ইউরোপ ও এশিয়ার ৫১টি দেশ এবং দুটি আন্ত:সরকার সংগঠনের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিচ্ছেন।
উদ্বোধনী অধিবেশনে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট, শ্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী, নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষণ দেন দ্বিতীয় প্লানারি সেশনে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব্যব্যাপী শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সব দেশ ও জাতির মধ্যে স্বচ্ছন্দ চলাচল এবং সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন। সমৃদ্ধির জন্য কৌশলগত সুযোগ হিসেবে তিনি কানেক্টিভিটিকে কাজে লাগানোরও আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, শীর্ষ সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রী জাপান ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। মঙ্গোলিয়ায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে তার বৈঠক হয়। এসময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী গুলশান হামলার তীব্র নিন্দা জানান।
সন্ত্রাস মোকাবেলায় জাপান ও বাংলাদেশ একযোগে কাজ করবে বলেও অঙ্গীকার প্রকাশ করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় শেখ হাসিনা জানান, যারা ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তাদের শিকড় খুঁজে বের করা হবে। প্রধানমন্ত্রী জানান বাংলাদেশে জাপানি নাগরিকসহ বিভিন্ন সেক্টরে যেসব বিদেশী কাজ করছেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।