সেনা অভুত্থানের ধাক্কা প্রাথমিকভাবে সামলে উঠেছে তুরস্ক সরকার— তবে এখনো দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে সংঘর্ষ চলছে। অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান জনগণকে রাজপথে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
সেনা অভ্যুত্থান শুরু হওয়ার পর থেকে বিদ্রোহী সেনা ও সরকার সমর্থকদের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১৬১ জন আর আহত প্রায় পনেরোশ।
এদিকে, অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাসহ ৩ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সেনা অভ্যুত্থান শুরু হয় স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে। সে সময় বসফরাস ব্রীজসহ ইস্তাম্বুলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ট্যাঙ্ক নিয়ে অবস্থান নেয় সেনাবাহিনীর বিদ্রোহী সদস্যরা। ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারার আকাশে হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়।
এর কিছুক্ষণ পরেই সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়, এতে বলা হয় দেশে কারফিউ এবং জরুরি আইন জারি করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এসময় ছিলেন দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলে অবকাশ যাপনে। খবর পেয়ে ইস্তাম্বুলে বিমানবন্দরে পৌছে সেখান থেকেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। অভ্যুত্থান ব্যর্থ করতে তুরস্কের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘এটা একটা রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ। যারা এ কাজ করেছে, তাদের চরম মূল্য দিতে হবে। প্রশাসন সরকারের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। শিগগিরই সেনাবাহিনীর মধ্যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করা হবে।’
এরপর দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে তুরস্কের জনগণের ঐক্যের কারণে এ অভ্যুত্থান কার্যত ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করে। পরিস্থিতি এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম।
এদিকে, সরকার অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়েছে দাবি করলেও, আঙ্কারা, ইস্তাম্বুলসহ দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এখনো সংঘর্ষ চলছে বলেই বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা রয়েছেন।
অবশ্য এটা এখনো নিশ্চিত নয় যে কে বা কারা সেনাবাহিনীর ওই বিদ্রোহী অংশের নেতৃত্ব দিয়েছে। তবে এ সেনা অভ্যূত্থানের জন্য দেশটির ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনকে দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান।