তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থানের জের ধরে গণ আটক ও বরখাস্ত চলছেই— সবশেষ বরখাস্ত হয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৫ হাজার কর্মকর্তা। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড় হাজার ডিনকে পদত্যাগের নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২১ হাজার শিক্ষকের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে।
দেশটির সরকার রেডিও, টিভি মিলিয়ে ২৪ টি গণমাধ্যমের লাইসেন্স স্থগিত করেছে। এ পর্যন্ত ধরপাকড়, চাকরিচ্যূত ও বরখাস্তের সংখ্যা সব মিলিয়ে ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে।
তুরস্কে গত শুক্রবারের ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের জের ধরে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিচার বিভাগের পর মঙ্গলবার থেকে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয় দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমে। এ পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৫ হাজার কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড় হাজার ডিনকে পদত্যাগের নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২১ হাজার শিক্ষকের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। দেশটির ২৪টি টিভি ও রেডিও চ্যানেলের লাইসেন্স স্থগিত করেছে তুরস্কের মিডিয়া রেগুলেশন কর্তৃপক্ষ।
এছাড়াও ছাটাই করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রায় ৯ হাজার কর্মীকে।
এর আগে ২৪ জন জেনারেল, ২৯ জন কর্নেলসহ ৬ হাজার সেনা কর্মকর্তাকে আটক করা হয়। বরখাস্ত হন ৯ হাজার পুলিশ কর্মকর্তা ও ৩ হাজার বিচারক।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ২৫০ কর্মকর্তাকেও সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বরখাস্ত হয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেড় হাজার কর্মকর্তা। সেইসঙ্গে ৩০ জন গভর্নর এবং ৫০ জনেরও বেশি উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
সরকার বলছে, এদের সবাই যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেয়া দেশটির ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের অনুগত। এর্দোয়ান সরকার এই অভ্যুত্থানের জন্য গুলেনকেই দায়ী করেছে। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গুলেন।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী ইলদিরিম জানিয়েছেন, ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান বিষয়ে বুধবার পার্লামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। অভ্যুথানে জড়িতদের শাস্তি দেয়ার জন্য তুরস্কে মৃত্যুদন্ডের বিধান ফিরিয়ে আনার আভাস দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ান।
তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলছে, মৃত্যুদণ্ড ফিরিয়ে আনলে ইইউতে তুরস্কের যোগদানের বিষয়টি স্থগিত হয়ে পড়বে।