জার্মানির মিউনিখে বিপণিবিতান আলিম্পিয়ায় বন্দুকধারীর হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৯ জন এবং আহত হয়েছেন আরো ২৭ জন। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার পর গুলিতে আত্মহত্যা করেন জার্মান-ইরানি নাগরিক ১৮ বছর বয়সী ওই অস্ত্রধারী।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, এ হামলাকারীর সঙ্গে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের কোন যোগাযোগ নেই এবং তার কোন পুলিশ রেকর্ড নেই।
তবে নির্বিচার হত্যার প্রতি বেশ আগ্রহ ছিল তার। এমনকি হামলাকারী বেশ কয়েক বছর ধরে মানসিক চিকিৎসাও নিচ্ছেন বলে উল্লেখ করেছে জার্মান পুলিশ।
গেলো সোমবার জার্মানির একটি ট্রেনে ছুরি ও কুঠার নিয়ে হামলা চালায় আফগান শরণার্থী এক কিশোর। তার রেশ কাটতে না কাটতেই চারদিনের মাথায় দ্বিতীয়বারের মতো সন্ত্রাসী হামলার শিকার হলো জার্মানি।
স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে মিউনিখের অলিম্পিয়া শপিং সেন্টারে হামলা চালায় এক বন্দুকধারী। ম্যাকডোনাল্ডের একটি রেস্তোঁরা থেকে প্রথম গুলি করে বন্দুকধারি । এরপর নির্বিচার গুলি চালাতে চালাতে ঢুকে পড়ে পাশের শপিং সেন্টারে।
বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হয় ৯ জন। আহত হন আরো ২৭ জন। পরে আত্মহত্যা করে বন্দুকধারী। অলিম্পিয়া শপিং সেন্টার থেকে এক কিলোমিটার দূরে তার মৃতদেহ পায় পুলিশ।
প্রথমে, একাধিক হামলাকারী থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও পরে পুলিশ নিশ্চিত করে, হামলাকারী একজনই এবং তিনি জার্মান ও ইরানিয়ান নাগরিক। তার বয়স ১৮ এবং মিউনিখ শহরেই জন্ম। পুলিশ রেকর্ডে তার কোন অপরাধের তথ্য নেই।
হামলাকারীর সঙ্গে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসেরও কোন সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে নির্বিচার হত্যার প্রতি তার একধরণের ভালোলাগা কাজ করতো। হামলাকারীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন নির্বিচার হত্যা সংক্রান্ত সংবাদপত্রের ক্লিপিং পেয়ে এ মন্তব্য করেছে জার্মান পুলিশ। এছাড়া হামলকারী বেশ কয়েক বছর ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন ও কয়েকবার মনোচিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছিলেন।
পুলিশ ধারণা করছে, ফেইসবুকে একটি মেয়ের নামে ফেইক একাউন্ট খুলে সে লোকজনকে ম্যাকডোনাল্ড রেস্টুরেন্টে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।
এছাড়াও হামলাকারীর সঙ্গে ২০১১ সালে নরওয়ে গণহত্যাকারী আন্দ্রে ব্রেইভিকের অবশ্যই কোন যোগাযোগ ছিলো বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এদিকে, ভয়াবহ এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। জার্মানির পাশে থাকার অঙ্গিকার জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।