গুলশানে জঙ্গি হামলায় ৭ জন জাপানি নিহত হওয়ার পরও বাংলাদেশকে আগের মতোই সহযোগিতা দিয়ে যাবে জাপান। ওই হামলার মাস পূর্তিতে মঙ্গলবার টোকিওতে নিহত জাপানিদের স্মরণে আয়োজিত সভায় এ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের ভয়ে তাদের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকতে পারে না। জঙ্গি হামলার ঘটনাটিকে আবারো ন্যাক্কারজনক ও ঘৃণ্য কাজ।
বাংলাদেশের উন্নয়নে একক দেশ হিসেবে বৃহত্তম অংশীদার জাপানের যে ৭ জন নাগরিক জঙ্গি হামলায় নিহত হন, তাদের ৬ জনেই ঢাকায় মেট্রোরেল প্রকল্পে কাজ করছিলেন। গেলো বছর বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলায় একজন জাপানি নিহত হওয়ার পর গুলশান হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয় জাপানে।
প্রধানমন্ত্রী আবে নিজেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন।
এরইমধ্যে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার মাসপূর্তিতে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার টোকিওতে নিহত জাপানিদের স্মরণে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন নিহতদের পরিবারের সদস্য, প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমিও কিসিদা, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারাসহ প্রায় ৯০০ জন।
স্মরণসভায় প্রধানমন্ত্রী আবে বলেন, বাংলাদেশ জাপানের বন্ধু প্রতীম দেশ। এখানে আঘাত মানে পুরো এশিয়ায় আঘাত। তবে উগ্রবাদীদের দাপটে ভীত নন তারা, বন্ধুত্বের হাত নিয়ে বাংলাদেশের পাশে সব সময় জাপান আছে, থাকবে।
জঙ্গি হামলার ঘটনাটিকে ন্যাক্কাজনক ও ঘৃণিত কাজ উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, তিনি কখনোই চাননি এ ধরনের খবর শুনতে। এটি অমানবিক ও কাপুরুষদের কাজ।
এ সময় জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা বলেন, জাপান সরকার বাংলাদেশসহ বিদেশে তার নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য বুলেট প্রুফ গাড়ির ব্যবস্থার করছে।
বাংলাদেশে উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের কথাও বলেন তিনি।