দেশে সাম্প্রতিক জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে যাদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেককেই নিজেদের কর্মী বলে দাবি করেছে আইএস। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদন এমনটাই বলছে।
প্রতিবেদনে আবু জিদাল ওরফে জিলানি ওরফে আশিকুর রহমান নামে বাংলাদেশি এক তরুণের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, আইএসের তথ্য অনুযায়ী, সে গত বছর সিরিয়া গিয়ে আইএসে যোগ দেয় এবং সেখানেই যুদ্ধে প্রাণ হারায়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে দেশের জঙ্গিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয়টির ইঙ্গিত রয়েছে।
বুধবার প্রকাশ করা এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায় বাংলাদেশি তরুন জিলানি ওরফে আবু জিদাল ওরফে আশিকুর রহমান প্রকৌশল পড়া ছেড়ে দিয়ে গত বছর ইসলামিক স্টেটের পক্ষে লড়াই করতে সিরিয়া যায়। সেখানে ২৩ মিলিমিটারের কামানের গুলিতে নিহত হয় সে।
রয়টার্স জানিয়েছে, গুগল সার্চের মাধ্যমে তার মৃত্যুর ঘোষণাটি বেরিয়ে আসছে। অথচ গত মাসের গুলশান হামলার পর পুলিশ ২৬১ জন জঙ্গির যে তালিকা প্রকাশ করে সেখানে তার নাম রয়েছে।
রয়টার্স জানায় এ ব্যাপারে র্যা ব তাদের জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত জঙ্গি আশিকুরের মৃত্যুর তথ্য তার পরিবার কিংবা পুলিশের কাছে নেই। তাই তার নাম জঙ্গি তালিকায় রাখা হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার গুলশান হামলার প্রধান প্ররিকল্পনাকারী তামিম আহমেদ চৌধুরীর নাম ঘোষণা করেছে।
বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এই তামিম চৌধুরী তিনিই যাকে গত এপ্রিলে বাংলাদেশের কমান্ডার হিসেবে আইএস নিযুক্ত করে। বিষয়টি বাংলাদেশের পুলিশ পরোক্ষভাবে স্বীকার করলেও বাংলাদেশে আইএসের উপস্থিতি নেই বলে দাবি করছে- প্রতিবেদনে বলা হয়।
প্রতিবেদনে নয়া দিল্লি ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক, সোসাইটি ফর দি স্টাডি অফ পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট এর নির্বাহী পরিচালক অনিমেষ রাউলের বরাত দিয়ে বলা হয়, তারা এখনো প্রচলিত জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলোর দিকেই মনোযোগ রেখেছে, কিন্তু বুঝতে পারছে না যে, আইএস বা একিউআইস বা ভারতীয় উপমহাদেশের আল কায়দা জঙ্গিরা ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করছে এবং তৃণমূলের জঙ্গি এবং উগ্র তরুনদের সমর্থন আদায় করছে।