পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিদের হামলার আশঙ্কায় ভারতে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাস জুড়ে দেশের সব রাজ্যেশর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলেছে। রাজধানী দিল্লি এবং গুজরাট, মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব, রাজস্থান ও কাশ্মিরে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা।
ভারতের পুলিশকে ‘পকিস্তান সমর্থিত’ জঙ্গি সংগঠনগুলোর সম্ভাব্য্ ‘স্লিপার সেলের’ বিরুদ্ধে এসব রাজ্যের বিশেষ অভিযান শুরুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, পাকিস্তান কাশ্মির সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর অভিযানের ‘বদলা’ নেয়ার পাশাপাশি চলতি মাসের মাঝামাঝি গোয়ায় অনুষ্ঠেয় ব্রিকস-বিমসটেক সম্মেলন ‘বানচালের জন্যক আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা’ করতে পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সতর্কতায় পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠীর পাল্টা হামলার আশঙ্কা করা হয়েছে। কৌশলগত স্থান, শিল্প অবকাঠামো, জনবহুল স্থান, বিমানবন্দর, ঐতিহাসিক স্থাপনা, সরকারি ভবনে নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
একটি সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি যাতে আরো খারাপের দিকে না যায়, সেজন্যধ পাকিস্তানের ওপর চাপ দিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছে।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শারিফ ঠিক কী করতে চাইছেন, তাও বোঝার চেষ্টা করছে ভারত।
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে এক চাচা ও ভাইকে হারানো রাহিল তার ভারতবিরোধী বক্তব্যে র জন্য বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছেন।
ভারতের সেনাপ্রধান অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল দীপক কাপুর বলেন, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে ঢুকে ভারত অভিযান চালানোর কারণে রাহিল শরিফের ভবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আগামী চার মাসের মধ্যের তিনি অবসরে যাচ্ছেন। শেষ সময়ে তিনি বড় কিছু ঘটিয়ে যেতে চাইতে পারেন।
পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই বাংলাদেশ বা আফগানিস্তানের স্বার্থে আঘাত হানার মাধ্যযমে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সাবেক বিশেষ সচিব রানা ব্যা নার্জি।
পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এই হামলার দিকনির্দেশনা সন্ত্রাসীদের দিয়ে থাকতে পারে।
পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের কথিত সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে দিন কয়েক আগে ভারতীয় সেনারা ‘সার্জিক্যাল হামলা’ চালানোর দাবি করে। এ নিয়ে সীমান্তে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলওসি) দুই দেশের সেনাবাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে— সংঘাতের আশঙ্কায় সীমান্তের উভয় পাশের লোকজন নিরাপদ দূরত্বে সরে যাচ্ছেন।