জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে নভেম্বরে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত হয়ে গেছে। এদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক এই সহযোগিতা সংস্থাটি দিন দিন কার্যকারিতা হারাচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
চার্টারে না থাকলেও, সার্ককে কার্যকর করতে এই ফোরামেই দ্বিপাক্ষিক সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনার সুপারিশ তাদের।
জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে উত্তেজনার জেরে প্রথমে ভারত সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। অভ্যন্তরীন বিষয়ে পাকিস্তানের হস্তক্ষেপের কারণে না যাওয়ার কথা জানায় বাংলাদেশও। পরে আফগানিস্তান, ভূটান এবং সবশেষে শ্রীলংকাও যোগ দেবে না বলে জানিয়ে দেয়।
শুক্রবার সার্ক শীর্ষ সম্মেলন আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করে, বিবৃতি দেয় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, সম্মেলনে যোগদানে কয়েকটি সদস্য দেশের অনাগ্রহের পরিপ্রক্ষিতেই এই ঘোষণা।
সেইসঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সমস্যাকে আঞ্চলিক ফোরামের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সার্কের চেতনা লঙ্ঘনের অভিযোগও আনা হয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে।
এ অবস্থায় সার্কের গতিশীলতা কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক সমস্যাগুলোর কারণে সার্ক কার্যকারিতা হারাচ্ছে বলেও মত তাদের।
যদিও সার্ক চার্টার অনুযায়ী, সম্মেলনে দ্বিপাক্ষিক কোন সমস্যাই আলোচনা করা যায় না।
তবে এ ধরনের সমস্যার কারণে অতীতেও শীর্ষ সম্মেলন স্থগিতের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে, সঙ্কট সমাধানে সার্ককেই উদ্যোগ নিতে হবে-বলে মনে করেন সার্কের সাবেক মহাসচিব কিউ এ এম এ রহিম।
১৯৮৫ সালে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে সার্ক গঠিত হলেও এখন পর্যন্ত এ জোট ১৮টি বৈঠক করতে পেরেছে।