পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের জবাব দেবে দেশটি বলে আশঙ্কা করছে ভারত।
পাল্টা হামলা ঠেকাতে এরইমধ্যে প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছে দিল্লি। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরার চেষ্টা করছে ভারতে, তেমনি সীমান্ত আতিক্রম করে দেশটির ভূখণ্ডে হামলার কথা অস্বীকার করে যাচ্ছে পাকিস্তানও।
অভিযানের পর পাকিস্তান এখনো কোমায় বলছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। আর পাকিস্তানের সাবেক সেনা প্রধান বলছেন- দিল্লি হামলার হুমকিতে এগিয়ে থাকলেও বাস্তবে হামলা চালিয়ে দেখিয়ে দিতে পারে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীই। সীমান্ত ঘিরে এই উত্তেজনা প্রভাব ফেলেছে বিনোদন আর খেলাধূলার জগতেও।
কাশ্মির নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের টানাপড়েন নতুন নয়। তবে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের উরিতে সেনাঘাঁটিতে হামলার পর থেকেই দেশদুটির মধ্যে উত্তেজনা চলছে।
গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের ভেতরে ঢুকে অভিযান চালানোর দাবি করে ভারত। এর বাইরেও প্রতিবেশি দেশটির ওপর চাপ বাড়ানোর লক্ষে নতুন নতুন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়ার চিন্তাভাবনা করছে নয়াদিল্লি। সেইসঙ্গে পাকিস্তানের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় সীমান্ত এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়েও নেয়া হচ্ছে। আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য শিবিরও খোলা হয়েছে।
পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের জঙ্গি আস্তানায় ভারতের চালানো সার্জিক্যাল স্ট্রাইক প্রসঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পরিকর বলেন, অস্ত্রোপচারের পর পাকিস্তান এখনো কোমায় আছে। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর দুই দিন পরেও পাকিস্তানের কোনো ধারণাই নেই কি ঘটেছে।
এদিকে, ঘটনাস্থলে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে দাবি করছে পাকিস্তান সেনা কর্তৃপক্ষ। ভারতীয় দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করতে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের সেনা কর্মকর্তারা।
ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে পাকিস্তানের সাবেক সেনা শাসক পারভেজ মুশাররফ বলেন, হুমকি দেয়ার বেলায় ভারত সবসময়ই এগিয়ে। তবে বাস্তবে কিছু করার ক্ষমতা থাকলে তা কেবল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীরই রয়েছে।
কাশ্মির ইস্যুর প্রভার পড়েছে দেশ দুটির বিনোদন জগতেও। চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বন্ধের পর এবার ভারতীয় টিভি চ্যানেলও নিষিদ্ধ করেছে পাকিস্তান।
বাদ পড়ছে না খেলাধূলাও। এরইমধ্যে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড, আইসিসিকে অনুরোধ করেছে- আগামী বছরের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দুই দেশকে যেন একই গ্রুপে না রাখা হয়।