ভারত-পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভোরে আবারো দুপক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়েছে। অবশ্য এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, সন্ত্রাসীদের ধরতে ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। এ হামলায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী-বিএসএফ এর এক সদস্য নিহত ও আরেক সদস্য মারাত্মক আহত হয়েছেন। এদিকে, উত্তেজনা নিরসনে ফোনে কথা বলেছেন দু দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টারা।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, উত্তর কাশ্মিরে রোববার রাতের এ হামলায় বিএসএফের এক জওয়ান নিহত ও অপর একজন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাশ্মিরের রাজধানী শ্রীনগর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরের বারামুলা জেলা শহরে ভারতের ৪৬ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের একটি ঘাঁটি এবং এর পাশের বিএসএফের ঘাঁটিতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ হামলা হয়।
তিন থেকে চার জন অস্ত্রধারী দুই ভাগে ভাগ হয়ে হামলায় অংশ নেয়— প্রথমে সেনা ঘাঁটির ফটকে গ্রেনেড ছুড়ে গুলিবর্ষণ করে তারা। পরে সেনা ও বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে তাদের গোলাগুলি শুরু হয়।
প্রায় দুই ঘণ্টা গোলাগুলির পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার কথা জানিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। গোলাগুলিতে দুই হামলাকারী নিহত হয়েছেন বলে হিন্দু জানিয়েছে।
বারামুলার এসপি ইমতিয়াজ হুসেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়, হামলার পর ওই সেনা ঘাঁটির কাছে ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে।
ওই সময় বড় বড় বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শুনতে পাওয়ার কথা আবিদ নবী নামে নিকটবর্তী এলাকার এক বাসিন্দা রয়টার্সকে জানান।
ভারতের সঙ্গে পরমাণু যুদ্ধ করতে গেলে মানচিত্র থেকে পাকিস্তান মুছে যাবে বলে সতর্ক করেছেন খোদ পাকিস্তানের বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পাভেজ মুশাররফ মন্তব্য করেছেন, ভুল নীতির জন্যই পাকিস্তান আজ একঘরে।
এদিকে, দুই দেশেরই চলছে রণপ্রস্তুতি। গত দুই সপ্তাহ ধরে করাচি, লাহৌর, কোয়েটা ও পেশোয়ারে টানা মহড়া চালাচ্ছে পাকিস্তান বিমানবাহিনী। হাইমার্ক নামের এই অনুশীলনে পাকিস্তানের জঙ্গি বিমানের অবতরণ ও উড্ডয়ন মহড়া হয়েছে ইসলামাবাদ-লাহোর মোটরওয়েতেও।
অন্যদিকে, সাম্ভাব্য হামলার যথাযথ প্রত্যাঘাতের প্রস্তুতি নিয়েছে ভারত। বিশ্বের অন্যতম সেরা হানাদার ফাইটার রাশিয়ার সুখোই -৩০ বিমান নিয়ে এই প্রস্তুতি ভারতের। চীন সীমান্ত থেকে সরিয়ে এনে ৪০টি সুখোই যুদ্ধবিমান লুধিয়ানের হালওয়াড়া বিমানঘাঁটিতে জড়ো করেছে ভারত।
এই ঘাঁটি থেকেই ১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের মাটিতে ধারাবাহিক আকাশ হামলা চালিয়েছিল ভারত।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর বারামুলা জেলার উরি সেনা ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলায় ১৯ সেনা সদস্য নিহত হন। পাকিস্তান সীমান্তের ঘাঁটিতে এ হামলার জন্য প্রতিবেশী দেশটির সন্ত্রাসীদের দায়ী করছে ভারত।
এর প্রতিক্রিয়ায় গত বুধবার পাকিস্তানের ভেতরে প্রবেশ করে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ নামে অভিযান চালানোর কথা জানিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী বলেছে, তাদের অভিযানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সন্ত্রাসী হতাহত হয়েছেন।
তবে তাদের মাটিতে এ ধরনের কোনো হামলার কথা নাকচ করেছে পাকিস্তান।
এরপর শনিবার সকালে জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারত ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে আবার গোলাগুলি হয়।
উল্লেখ, ১৯৪৭ সালে স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তিনটি যুদ্ধ হয়েছে। এরমধ্যে দুটিই হয়েছে কাশ্মীর নিয়ে। সম্প্রতিক ঘটনার পর দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার গ্রামগুলোতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এরইমধ্যে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের গ্রামগুলো থেকে কয়েক হাজার পরিবারকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
কাশ্মীর নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এ উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন।