হারিকেন ম্যাথিউয়ের আঘাতে হাইতিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৯ জনে।
ঝড়ের তাণ্ডবে দেশটির জেরেমি শহরের ৮০ শতাংশ ভবন ধসে পড়েছে— সুদ প্রদেশে ধ্বংস হয়ে গেছে ৩০ হাজার ঘরবাড়ি।
এদিকে, হাইতির পর এবার ফ্লোরিডা উপকূলে আঘাত হেনেছে ম্যাথিউ।
ফ্লোরিডায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে প্রায় দেড় লাখের মতো বাড়িঘর। এরইমধ্যে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ মানুষকে।
ফ্লোরিডাবাসীর সহায়তার জন্য ন্যাশনাল গার্ডের প্রায় আড়াই হাজার সদস্য কাজ করছে। প্রস্তুত রয়েছে আরও ৪ হাজার সদস্য। হাইতি ও বাহামায় আঘাত হানার পর ক্যরিবিয়ান সাগর অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার দিকে যাওয়ার সময় বিগত ১ দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে এ ঘূর্ণিঝড়টি।
ম্যাথিউর আঘাতে বাহামায় ঘরবাড়ি, গবাদিপশু ও শস্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এ অঞ্চলে হতাহতের কোনো খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার হাইতির দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে আঘাত হানে ম্যাথিউ
বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে, দেশটির কেবল দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রোচ-অ-বাতুতে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
হারিকেনের তাণ্ডবে উপদ্বীপটির প্রধান নগরী জার্মির ৮০ শতাংশ ভবন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে সুদ প্রদেশের ৩০ হাজার বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ফলে কয়েক হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। গাছপালা উপড়ে পড়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া অন্যান্য অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূল এবং এর আশপাশের গ্রাম ও শহরগুলো।
মঙ্গলবার হারিকেন ম্যাথিউ হাইতির উপকূলে আঘাত হানে। এটি এক দশকের মধ্যে ক্যারিবীয় অঞ্চলে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী হারিকেন।
হাইতিতে তাণ্ডব চালিয়ে লণ্ডভণ্ড করে দেয়ার পর প্রলয়ঙ্করী ঝড়টি কিউবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূল হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। হারিকেনটি ক্যাটাগরি চার মাত্রার ঝড়ে পরিণত হয়েছে।
হাইতির সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, হারিকেনের আঘাতে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২৮৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার মৃতের সংখ্যা শতাধিক বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
ম্যাথিওয়ের আঘাতে বাহামাসে গাছপালা উপড়ে গেছে এবং বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে গেছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
হাইতিতেই অধিকাংশ নিহতের ঘটনা ঘটেছে।
ম্যাথিউয়ের সরাসরি তিবুরোন উপদ্বীপ হয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সোম ও মঙ্গলবার ঝড়ের প্রভাবে অঞ্চলটিতে প্রবল বৃষ্টিপাত ও ঘন্টায় ২৩০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে।
বেসরকারি সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে টেলিফোন ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মানুষের কাছে থাকা খাবারের মজুদ ও বিশুদ্ধ পানি শেষ হয়ে যাচ্ছে।
হাইতির বাসিন্দারা নিজেরাই এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা সেনা বা পুলিশ সদস্যদের সাহায্য ছাড়াই ধ্বংসস্তুপ মেরামতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
লেস ক্যায়েসর বাসিন্দা জিন জোসেফ বলেছেন, শহরটি ‘সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত’ হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বহু মানুষ এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করছেন। তাদের থাকার কোনো জায়গা নেই। আমি জানি না তারা কি করতে যাচ্ছেন।’
জাতিসংঘের মানবাধিকার সম্পর্ক বিষয়ক সমন্বিত সংস্থা জানিয়েছে, হাইতির ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষের জরুরি ভিত্তিতে সহায়তার প্রয়োজন।
মার্কিন রেডক্রসের মুখপাত্র সুজি ডে ফ্রান্সিস বলেন, দেশব্যাপী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এখন টেলিফোন লাইন মেরামত করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এটা করতে প্রযুক্তি নিয়ে আসব।’
দুর্গত এলাকাগুলোতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ৯টি হেলিকপ্টার পাঠাচ্ছে।
মঙ্গলবার হারিকেনটির আঘাতে হাইতির প্রতিবেশী রাষ্ট্র ডোমেনিকান প্রজাতন্ত্রে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।